সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল সর্বদলীয় বৈঠক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলে বিরোধী শিবির। এর প্রতিবাদে তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দল প্রতীকী ওয়াকআউট করে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য তারা আবার বৈঠকে ফিরে আসে।
রবিবার সকাল ১১টায় সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির)-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের সাংসদ বৈঠক কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁদের অভিযোগ, এনসিপিআই-কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্পিকারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে তাদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর যৌক্তিকতা কী, সেই প্রশ্নই তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাংবাদিকদের বলেন, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি এখনও স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও সংসদে তাঁদের আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এখনও পৃথক সংসদীয় দফতর বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। সেই অবস্থায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার প্রতিবাদেই প্রতীকী ওয়াকআউট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ মোট ২০ জন সাংসদ সম্প্রতি এনসিপিআই (ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া)-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতির আবেদনও করেছেন। এরই মধ্যে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর দপ্তর থেকে তাঁদের সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।
রবিবারের বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল তাঁদের স্বাগত জানান। এরপরই বিরোধী শিবিরের তরফে আপত্তি ওঠে এবং অল্প সময়ের জন্য ওয়াকআউট হয়। পরে বিরোধী সাংসদরা ফের বৈঠকে অংশ নেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এনসিপিআই-র সংসদীয় স্বীকৃতি এবং তাদের ভূমিকা আগামী অধিবেশনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Leave a Comment