অভিষেকের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের, নতুন কী ঘটল?

By Suman Debnath

November 1, 2026 1:15 PM

অভিষেকের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের, নতুন কী ঘটল?


এবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় নালিশ ঠোকা হল৷ ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের নামে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি৷ পুলিশকে হুমকি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা পুলিশ করলে ভবিষ্যতে জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাংসদ। এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন তিনি। সম্ভবত এই বিষয়টি নিয়েই সাইবার ক্রাইম থানায় নালিশ ঠুকলেন রাজীববাবু।

এদিকে চোরবাগান কাণ্ড নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বড় পোস্ট করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেল। সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ এত বড় বিপর্যয়ের পরেও তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আয়োজকদের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিজেপির জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেবদীপ অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? কেন এখনও তাঁদের গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি?’ তারপরই এবার নতুন নালিশ ঠোকা হল।

আরও পড়ুন:  পেঁয়াজের দাম ছুঁতে পারে ৮০, পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

অন্যদিকে কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘যারা ভাবছে শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে কাজ করব, প্রত্যেকটা অফিসারকে আমি ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। যখন সরকার পাল্টাবে, কেউ বাঁচাবে না। আমার আপ্ত সহায়ককে মিথ্যে মামলা দিয়ে প্রায় আড়াই মাসের বেশি কাস্টডিতে রাখা হয়েছে। সব কিছুর হিসাব হবে। বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান? রাজনৈতিক প্রভাব কি তদন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সিটের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি, তদন্ত হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত। কয়েকজন চুনোপুঁটিকে গ্রেপ্তার করে এতগুলো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর দায় এড়ানো যাবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রত্যেক স্তরের দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে হবে’৷

তাছাড়া এখানেই শেষ নয়, আর কিছু কথা বলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের হুঁশিয়ারি ছিল, ‘বিজয় ওঝা, তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। যাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও মনে রাখা উচিত, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, আর আইনের হাতও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে থেমে যায় না। আজ তদন্তে গাফিলতি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা হলে, আগামী দিনে সেই সিদ্ধান্তেরও জবাবদিহি করতে হবে ও জেলেও যেতে হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, নইলে আগামী দিনে নিজেরাই আইনের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। ১৯টি প্রাণের বিচার চাই। কোনও রাজনৈতিক প্রভাব, কোনও ক্ষমতার দম্ভ, কোনও প্রভাবশালী পরিচয় যেন সত্যকে চাপা দিতে না পারে।’ তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি  বলেন, ‘এখন তো জিরো এফআইআর, সবার অভিযোগই এফআইআর হয়৷ বাকি তদন্তের পর কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কার বিরুদ্ধে হবে না, এটা পুলিশ ঠিক করবে৷ এটা পুলিশমন্ত্রীর কাজ নয়৷ পুলিশমন্ত্রীর কাজ হল বিএনএস কার্যকর হচ্ছে কিনা, সেটা দেখা৷ আমি ৯ মে দায়িত্ব নিয়েছি। ১১ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিএনএস চালু হয়েছে’৷

আরও পড়ুন:  শুভেন্দুর সরকারের প্রশংসা করে বিধানসভায় আইনশৃঙ্খলার হাল নিয়ে সরব মুস্তাফিজুর

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment