উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন। শুক্রবার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। আর ফলাফল থেকে স্পষ্ট, শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িয়ে দেওয়া বন্ধুত্বের হাত ধরেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর! শুধু রেজিনগর নয়, নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশও যে বিজেপির বাক্সে ঢুকে পড়েছে সেটা ফলাফল থেকেই স্পষ্ট। রেজিনগরে বিপুল ব্যবধানে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই সাফল্যের পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বারবার ধন্যবাদ জানালেন সংখ্যালঘু ভোটারদের। আর বুঝিয়ে দিলেন সংখ্যালঘু ভোটাররা এখন সরকারের সঙ্গেই আছেন।
এদিকে রেজিনগর থেকে আগে জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু নওদা থেকেও তিনি জিতেছিলেন বলে রেজিনগর কেন্দ্র ছেড়ে দেন। তাই এই উপনির্বাচন। তবে নিজের ছেলেকে এখানে প্রার্থী করেও ধরে রাখতে পারলেন না বিধানসভা কেন্দ্রটি। এই কেন্দ্র জেতার খবর আসার পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘এমন সাফল্যের নেপথ্যে ৭০-৩০ শতাংশের ভেদাভেদ কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে শাসকদলকেই সমর্থন করলেন। এতদিন ধরে বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘু মহলে যে অপপ্রচার চলেছে সেটা গত ৫ মাসে মিথ্যা বলে বুঝতে পেরেছেন জনতা। আর তাই নির্দ্বিধায় বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন। বন্ধুত্ব বানিয়ে নিয়েছেন।’
অন্যদিকে রেজিনগরে প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোট। একদা এই মুসলিম ভোটই তৃণমূলের বড় পুঁজি ছিল। এই উপনির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ গিয়েছে বিজেপিতে! তাই শুভেন্দু অধিকারী মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির জুতোয় পা না গলিয়ে উপনির্বাচনে রেজিনগরের মুসলিম ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে ভোট দিয়েছেন। ‘বন্ধুত্ব’ করেছেন সরকারের সঙ্গে। ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে দেখা যায়, ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে রেজিনগর থেকে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। রেজিনগরে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের দিদি-বোনরা ভোট দিয়েছেন। বেশি ভোট পেয়েছি সংখ্যালঘুদেরই। ৭০ শতাংশের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোটই দিয়েছেন সংখ্যলঘু ভাইবোনরা। ভেদাভেদের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ভোট দিয়েছেন।’
তাছাড়া তৃণমূলের দিকে মোটামুটি এককাট্টা থাকত সেটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে পালাবদলের পর সেই তৃণমূলই এখন টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় অস্ত্র মুসলিম, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক যে বিজেপির দিকে ঘুরেছে, ভোটের ফলাফল উল্লেখ করে সেটা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘এত বড় জয় কখনওই হতো না, যদি রেজিনগরের ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু মুসলিম অন্নপূর্ণাপ্রাপক দিদি-বোনেরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভোট না দিতেন। তাঁদের এতদিন বোঝানো হয়েছিল, বিজেপি এলে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। গত পাঁচ মাসে তাঁরা বুঝেছিলেন যে এসব কথা মিথ্যে। সেটা প্রমাণিত হওয়ায় আমরা তাঁদের ভোট পেয়েছি। আমি গত ৬ তারিখ ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’র কথা বলেছিলাম। তাঁরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আমি খুশি।’
Leave a Comment