---Advertisement---

টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তলব, সুমিত রায়কে ডাকল সিআইডি

By Suman Debnath

August 9, 2026 11:15 AM

টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তলব, সুমিত রায়কে ডাকল সিআইডি

---Advertisement---


শনিবার ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে রাতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি। তবে তাতেই যে বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে এমনটা নয়। আবার তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। সুতরাং রবিবার তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে রবিবার যে আসতে হবে তা নোটিস দিয়ে শনিবারই সুমিত রায়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই রবিবার সকালেই ভবানীভবনে হাজির হলেন তিনি সময়ের আগেই।

সিআইডি সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় তাঁকে তলবের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই তলবে সাড়া দিয়ে শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছেছিলেন সুমিত। তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন গোয়েন্দারা। এই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আর তাই তিনি গা-ঢাকা দিয়ে আইনজীবী মারফত আদালতের দুয়ারে কড়া নাড়ছিলেন। শনিবার যা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তারপরও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। সেইসব প্রশ্নের উত্তর জানতেই রবিবার চলে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে মাফিয়া রাজ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সমস্ত পথ যাবে ক্যামাক স্ট্রিটেই।

সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েই লুকোচুরি শেষ করে সিআইডি অফিসারদের সামনে এসেছিলেন শনিবার। দীর্ঘদিন ‘গা-ঢাকা’ দিয়ে সময়ের অপেক্ষা করছিলেন এই সুমিত রায়। জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেতেই সুমিত রায় সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন। শনিবার ভবানীভবনে পৌঁছে ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একাধিক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। বহু আগে থেকেই তাঁর খোঁজ জারি রেখেছিল পুলিশ। কিন্তু সুমিতের হদিশ মেলেনি। অবশেষে নিজেই এসে সিআইডি সদর দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন সুমিত রায়। রবিবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।

আরও পড়ুন:  ককরোচদের বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে সঙ্ঘ পরিবারের সংগঠন

রবিবার ফের কেন তাঁকে তলব করা হলো? সিআইডি কী জানতে চায় তাঁর কাছে? এইসব প্রশ্ন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে করা হলে কোনও উত্তর দেননি সুমিত। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে যান ভবানীভবনে। টালিগঞ্জের মহাবীরতলায় সুমিত রায়ের বাড়ি। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। তাই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। যা খারিজ হয়ে যায়। সুমিতের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ৪টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এটার আগে দু’টি এফআইআরের ক্ষেত্রে আগাম জামিন পেয়েছিলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক।

কিছুদিন আগে সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল শালবনি থানায়। ওই মামলাতেই তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। মাঝরাতে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সাংসদের আপ্তসহায়কের খোঁজ মেলেনি। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচের মামলা খারিজ হয়ে যেতে সুমিত রায় ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। আর শনিবারই ভবানীভবনে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন সুমিত রায়। রবিবারও গেলেন।

আরও পড়ুন:  কয়েক কোটি টাকার সোনা-সহ গ্রেপ্তার দুই যুবক, খাস কলকাতায় তুমুল আলোড়ন

অন্যদিকে সিআইডি দপ্তরে সুমিত রায় এই নিয়ে দু’বার হাজিরা দিলেও আইনি জট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে এখনও অতিরিক্ত দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এখন জেলবন্দি। সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তারের পরই উঠে আসে সুমিত রায়ের নাম। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন সুমিত বলে অভিযোগ। আর শালবনিতে একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম সুমিত রায়ের নাম রয়েছে। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই মেদিনীপুর আদালত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিস জারি করেছিল। এখন দেখার পর পর দু’বার হাজিরা দেওয়ার পর কোন পথে হাঁটেন সুমিত রায়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment