চোরবাগান কাণ্ডে কাউকেই রেহাই নয়, ৯ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ

By Suman Debnath

October 31, 2026 6:45 PM

চোরবাগান কাণ্ডে কাউকেই রেহাই নয়, ৯ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ


চোরবাগান কাণ্ডে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের চাপ বাড়ল। একদিকে আদালতে ধাক্কা খেলেন ধৃত অভিযুক্তেরা। অন্যদিকে মর্মান্তিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। ধৃত ৯ জনের কারও জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল না ব্যাঙ্কশাল আদালত। ৮ জন অভিযুক্তকে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ জন অভিযুক্ত আগে থেকেই জেল হেফাজতে ছিলেন। তাঁর জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অভিযুক্তদের। শনিবার তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জামিনের আবেদন জানান অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দেন বিচারক। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে ৯ জন অভিযুক্তকে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, চোরবাগানের মণ্ডপে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না। পুজো কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, প্রত্যেকেরই দায়িত্ব ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। অথচ সেই দায়িত্ব পালনে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন:  খাস কলকাতায় বাড়িতে মজুত বিপুল নিষিদ্ধ বাজি, যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

তদন্তে উঠে এসেছে, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে পুজো কমিটির পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি সংক্রান্ত নথিও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছিল সরকারি পক্ষ। এর পাশাপাশি, মণ্ডপে ঘোষণার ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, এমন ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা ঘটনার দায় নির্ধারণে পুজোর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী এবং পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিপর্যয়ের জন্য শুধু ধৃতদের দায়ী করা যায় না। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আদালতে জামিনের আর্জি খারিজের মধ্যেই চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে তৎপরতা বাড়াল বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। ঘটনার দিনের সম্পূর্ণ ঘটনাক্রম জানতে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে মোট ১৬ জনকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং এক জন এএসআই।

আরও পড়ুন:  চুরি সন্দেহে ৫৬টি মোবাইল-সহ দুই গ্রেফতার, ধৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক

তলব করা হয়েছে ডিসি সেন্ট্রাল প্রবীণ প্রকাশ এবং ডিসি ইস্ট অরিন্দম সরকারকে। ঘটনার সময় পুলিশের দায়িত্ব ও পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট চাওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারী দলের সদস্যরা প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের সচিব, রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর এক সদস্য।

আরও পড়ুন: বিপদে ‘ভাইরাল রাজুদা’, বাদ গেল না একাধিক খাবার দোকান, কী ঘটল শিয়ালদহে?

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় ঠিক কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক ছিল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কার কী দায়িত্ব ছিল এবং বিপর্যয়ের মৃত্যু সবটাই এখন তদন্ত কমিটির আতস কাঁচের তলায়।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment