বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এমনকী ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। সমাজমাধ্যমে অনেকে বলতে শুরু করেছেন ফাইনাল ম্যাচের ফল না কি আগে থেকেই সাজানো ছিল। অর্থাৎ, গড়াপেটার সাঙ্ঘাতিক অভিযোগ এনেছেন অনেকেই। যা নিয়ে তোলপাড় ফুটবলবিশ্ব।
সারা বিশ্বকাপে যে দল ১৯টি গোল করেছে, যারা প্রায় সব ম্যচেই দাপুটে ফুটবল খেলে অপরাজিত থেকেছে, তারা ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে কী করে কার্যত আত্মসমর্পণ করল, তা ভেবে কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না অনেকেই। এই হারের সঠিক ব্যাখ্যা না পেয়ে তাই গট-আপ-এর তত্ত্ব সাজাচ্ছে তারা।
সেসব বিতর্ককে কার্যত উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরো যোগ্যতাই ছিল স্পেনের। তাই ফাইনাল নিয়ে ছড়ানো গুজবে কান দেওয়ার কোনও অর্থ নেই।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে গতবার জেতা খেতাব হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তপ্ত বচসা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন পারেদেস। স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সেই ঘটনার তদন্তও শুরু করে ফিফা।
ফাইনাল নিয়ে সামাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ম্যাচ আগে থেকেই সাজানো ছিল’— এমন দাবি সম্পর্কে পারেদেস বলেন, ‘এসব কথায় কোনও গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। স্পেন খুব ভালো খেলেছে এবং ওরাই বিশ্বকাপ জেতার যোগ্য ছিল’।
তবে ফাইনালের হার এখনও তাঁকে কষ্ট দেয় বলেও স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তাঁর কথায়, ‘এই হার আমাদের অনেক দিন তাড়া করে বেড়াবে। বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়ার যন্ত্রণা সহজে ভোলার নয়’।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ফাইনালের পরের হাতাহাতির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ফিফা।
সব বিতর্কের মাঝেও পারেদেসের বার্তা একটাই— ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নয়, বরং মাঠের ফলাফলই শেষ কথা। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনই ছিল সেরা দল এবং সেই কারণেই তারা ট্রফি জিতেছে।
Leave a Comment