---Advertisement---

পুজোর আগেই বঙ্গ বিজেপিতে বড় সাংগঠনিক রদবদল! একাধিক জেলা সভাপতির পদে বদল, কড়া হচ্ছে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি

By Suman Debnath

July 30, 2026 9:50 AM

পুজোর আগেই বঙ্গ বিজেপিতে বড় সাংগঠনিক রদবদল! একাধিক জেলা সভাপতির পদে বদল, কড়া হচ্ছে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি

---Advertisement---


দুর্গাপুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বিজেপির (BJP) সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সর্বস্তরে রদবদলের পথে হাঁটছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি থেকে মণ্ডল, এমনকি বুথ স্তরেও নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা একাধিক নেতার পদও যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

দলীয় সূত্রের দাবি, পুজোর আগেই গোটা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পূর্ণ করতে চায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। লক্ষ্য একটাই—প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাজের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করে দলকে আরও কার্যকর করা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের সামনে নিয়ে আসার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে জেলা নেতৃত্বে। একাধিক জেলায় নতুন জেলা সভাপতি নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু জেলা নয়, মণ্ডল সভাপতি এবং বুথ কমিটিতেও ব্যাপক রদবদল হতে পারে। রাজ্যে সরকার গঠনের পর গত দু’মাসে নিচুতলার বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে, সেই অভিযোগগুলিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:  ভারত ট্যাক্সি জুড়তে চলেছে যাত্রীসাথীর সঙ্গে, ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ

অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির দুই নেতাকে কেন্দ্রীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। দলীয় অন্দরের খবর, একজনকে জাতীয় সহ-সভাপতি এবং অন্যজনকে জাতীয় সম্পাদক করা হতে পারে। যদিও এই দুই পদের জন্য কারা বিবেচনায় রয়েছেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এর আগে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) ছিলেন জাতীয় সম্পাদক। এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় দিল্লিতে রাজ্য ইউনিটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতিকে কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলেও জানা যাচ্ছে। সেই কারণে সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বিজেপি বিধায়কদের নতুন সাংগঠনিক কমিটিতে রাখা না-ও হতে পারে। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা নেতাদের সংগঠনের দায়িত্ব থেকে আলাদা রাখার কৌশল নিয়েছে দল।

বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)-এর বিভিন্ন স্তর থেকে বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাই তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি মমতাপন্থী তৃণমূলকে, আদালতের কড়া শর্ত— ৩ ঘণ্টা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ জন

একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের কিছু স্তরে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। সেই সমস্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করেই ভবিষ্যতের সংগঠনকে আরও মজবুত ও জবাবদিহিমূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগেই বঙ্গ বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া, অভিযোগের মুখে থাকা নেতাদের সরানো এবং কেন্দ্রীয় সংগঠনে বাংলার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো—এই তিনটি লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বিজেপি। এখন নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment