প্রথম বোমাটি ফাটিয়েছিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তারপর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাতে সিলমোহর দিয়ে বার্তা দেন। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরব হয়েছিলেন তোলাবাজির বিরুদ্ধে। আর এবার সরাসরি পদক্ষেপ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। সুতরাং তোলাবাজি যে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা একপ্রকার পরিষ্কার। এই রোগ থেকে দলকে মুক্ত করতে এখন কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। সেটাই মঙ্গলবার বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন অর্জুন সিং।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন হয়েছে তিন মাস হলো। তার মধ্যে তোলাবাজি ‘অসুখে’ দলের একাংশ যে ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছে সেটা বিজেপির শীর্ষ নেতারা কবুল করেছেন। আর এই অসুখ সারাতে এবার কড়া দাওয়াই দেওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী। এর আগে বিজেপির শীর্ষ নেতা থেকে মন্ত্রীর বয়ানে উঠে এসেছে চরম হুঁশিয়ারি। তবে এদিন কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের মত, শুধু সাবধান করে হবে না। সোজা ব্যবস্থা নিতে হবে। সুতরাং এবার এসপার ওসপার চাইছেন মন্ত্রী। কারণ এই তোলাবাজির অভিযোগ দলের অন্দরে ব্যাপক হারে জমা পড়েছে। যা নিয়ে রাজ্যের মানুষ অসন্তুষ্ট। এসব করার জন্য জনগণ যে তাঁদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেননি সেটাও নানা কথায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এদিন উত্তরবঙ্গ সফরে আছেন রাজ্যের শ্রম এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন। আর মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের নানা চা-বাগান পরিদর্শন করে চলেছেন তিনি। শ্রম ভবনে গিয়ে সবটা তদারকি করে বৈঠকও করেন। তার মধ্যেই দলের নেতা এবং কর্মীদের তোলাবাজি ইস্যুতে সাবধান করেছেন মন্ত্রী। এই বিষয়ে কড়া ভাষায় অর্জুন সিং বলেন, ‘উষ্মাপ্রকাশ করে কোনও লাভ নেই৷ এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাঁরা তোলাবাজি করছেন, তাঁরা আসলে দলের ক্ষতি করছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে এই তোলাবাজির অভিযোগ বা যাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’
তাছাড়া ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, সময় ১৫ দিন। তার মধ্যে সকলে শুধরে না গেলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ক্ষোভ, তোলাবাজির ‘মধু’ তাঁর দলের কতিপয় নেতাকেও আচ্ছন্ন করেছে। দল সব নজর রাখছে। ৬ মাস পর সব কিছুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে দুর্নীতি এবং তোলাবাজি নিয়ে অভিযোগ উঠলে অর্জুনের দাওয়াই দল থেকে বহিষ্কার। এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।
Leave a Comment