প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। তাঁর মতে, আওয়ামি লিগ (Awami League)-এর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দলের সভানেত্রী ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান ভোটের মাধ্যমে হওয়া উচিত, কোনও দলকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে নয়। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে এবং পরে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা তৈরি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর কথায়, দেশের মানুষই নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন কে ক্ষমতায় থাকবে।
এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এল, যখন শেখ হাসিনা নিজেও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান। জানা গিয়েছে, আগামী ৫ অগস্ট ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (Foreign Correspondents’ Club of South Asia)-র সদস্যদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, গণতন্ত্রে সব দলের অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে নিজের দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিরোধিতাও করেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের নির্বাসিত জীবনের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন। তিনি জানান, এখনও নিজের দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর অভিযোগ, অতীতের বিভিন্ন সরকার তাঁকে দেশে ফিরতে দেয়নি। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের প্রসার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উগ্রপন্থার প্রভাব কমানোর জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। তাঁর মতে, বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তসলিমার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, তবু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
Leave a Comment