নবান্নের পর এবার বিকাশ ভবন। এতদিন বিকাশ ভবনে দীর্ঘদিনের পরিচিত নীল-সাদা রঙের দেখা মিলত। কিন্তু এবার তা বদলে গেরুয়া হচ্ছে। এবার এই রঙেই দেখা যাবে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের সদর দপ্তর বিকাশ ভবনকে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক ভবনগুলির রং পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে বিকাশ ভবনেও চলছে রং করার কাজ। আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে রাজ্যের সরকারি ভবন, সেতু, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় নীল-সাদা রং ছিল সরকারের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বহু সরকারি ভবনের রং বদলে নীল-সাদা করা হয়েছিল। সেই রং এক সময় রাজ্যের প্রশাসনিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাত ধরে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি ভবনগুলির রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ভবনগুলিকে নতুন করে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই রং করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিকাশ ভবনেও গেরুয়া রঙের প্রলেপ দেওয়া শুরু হয়েছে।
বিকাশ ভবন রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। স্কুলশিক্ষা দপ্তর-সহ একাধিক দপ্তরের প্রশাসনিক কাজকর্ম এখান থেকেই পরিচালিত হয়। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এই ভবনের গুরুত্ব বিশেষ। ফলে এই ভবনের রং পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিরোধীদের দাবি, সরকারি ভবনের রং বদল রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার ছাড়া অন্য কিছু নয়। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, সরকারি ভবনগুলির সংস্কার ও নতুন পরিচ্ছন্ন চেহারা দেওয়ার কাজ চলছে। সরকারের দাবি, রং নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা। বিকাশ ভবনে রং করার কাজ এখনও চলছে। তা সম্পূর্ণ হলে ভবনটির চেহারা আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই রং পরিবর্তন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
Leave a Comment