জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। মেদিনীপুর আদালতে জমা করা নথিপত্রে ঠিক এমনটাই দাবি করেছে সিআইডি। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকা লেনদেনের পিছনে রয়েছে বড় মাথা। সুমিত রায় ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবি সিআইডির।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুমিত তাদের জানিয়েছেন কোটি কোটি টাকা লেনদেনের সঙ্গে বড় নাম জড়িত। এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সহযোগীদেরও তিনি শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অপরাধে যুক্ত টাকা উদ্ধারে সুমিত তদন্তকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। মেদিনীপুর আদালতে সিআইডির জমা করা নথিপত্রে এমনই সব বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। তবে বড় মাথা বলতে সুমিত রায় ঠিক কার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আদালতে সিআইডি যে নথি পেশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৮০ নম্বর ধারায় সুমিতের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বাতিল হতেই অ্যাকশন মোডে নামেন সিআইডি ও এসটিএফের আধিকারিকেরা। বৃহস্পতিবার আধিকারিকেরা সোজা পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। অভিষেকের বাড়ি ঘিরে ফেলেন সিআইডি ও এসটিএফের আধিকারিকেরা। এরপরেই শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর সুমিতকে নিয়ে ভবানী ভবনের দিকে রওনা দেন সিআইডির আধিকারিকেরা। ভবানী ভবন থেকে এসএসকেএম-এ এনে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরই তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। মেদিনীপুর আদালত সুমিত রায়কে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তবে অভিষেকের আপ্ত সহায়কের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানাননি।
উল্লেখ্য, শালবনি থানার অন্তর্গত সরকারি জমি বেআইনিভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভক্ত করে বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগে আগেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ ২ জন গ্রেপ্তার হন। সেই ঘটনায় একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সুমিত রায়ের সক্রিয় ভূমিকা ও বিপুল অঙ্কের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। এরপরেই সুমিতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ বাতিল হতেই অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি ও এসটিএফ, গ্রেপ্তার সুমিত রায়
সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ মিললেও ভবানী ভবনে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে সিআইডি। তবে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এরপরে সুপ্রিম কোর্ট অভিষেকের আপ্ত সহায়কের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে। তারপরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Leave a Comment