দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) আমতলায় (Amtala) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসে শনিবার সকাল থেকেই প্রশাসনের বড়সড় বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা ছাড়াই পাঁচতলা সাংসদ কার্যালয় গড়ে তোলার অভিযোগে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force), দমকল এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা। গোটা এলাকা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আমতলার এই পাঁচতলা ভবনটি বৈধ প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর একাধিক নোটিস পাঠানো হয়। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শেষ পর্যন্ত ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রথম নোটিস জারি করা হয়েছিল ৩০ জুন। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস পাঠানো হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই শুনানির জন্য জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সেই নোটিসগুলির কোনওটিরই উত্তর মেলেনি।
শনিবার সকাল থেকে সাংসদ কার্যালয় চত্বর গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর একে একে তিনটি বুলডোজার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পাঁচতলা ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন কার্যালয়ের বাইরে বহু বিজেপি (Bharatiya Janata Party) কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপির একাধিক কর্মী দাবি করেন, অতীতে এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক এই অভিযানের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) সই জাল সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
একদিকে আদালতে অন্তর্বর্তী স্বস্তি, অন্যদিকে আমতলায় সাংসদ কার্যালয়ে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।
Leave a Comment