---Advertisement---

বৃষ্টিতে দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু ২ বছরের শিশুর

By Suman Debnath

July 14, 2026 3:05 PM

বৃষ্টিতে দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু ২ বছরের শিশুর

---Advertisement---





আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আর ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে। ফলে নতুন বাড়ির কাজ থমকে রয়েছে  মাঝপথে। বাধ্য হয়ে বর্ষার দিনে জীর্ণ, নড়বড়ে মাটির ঘরেই আশ্রয় নিতে হয়েছিল পরিবারকে। সেই অপেক্ষারই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মঙ্গলবার সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল কাঁচা বাড়ির একটি দেওয়াল। দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হল দুই বছরের তামিম খানের। আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুই সদস্য এবং এক প্রতিবেশী। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের আমডহরা গ্রামে ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর ব্লকের বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের আমডহরা গ্রামের বাসিন্দা নিম্বর খান। দীর্ঘদিন ধরেই মাটির বাড়িতে বাস করছিলেন তিনি। বহু আবেদন-নিবেদনের পর আবাস যোজনায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা হাতে পেয়ে নতুন বাড়ি তৈরির কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে কোনও কারণে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আর মেলেনি। ফলে মাঝপথেই থেমে যায় বাড়ি তৈরির কাজ। বিপদের আশঙ্কা জেনেও বাধ্য হয়েই পুরনো কাঁচা বাড়িতেই থাকছিল নিম্বরের পরিবার।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সামনে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বাড়ির একটি দেওয়াল। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন মাহেদা খান, রুমা খান, প্রতিবেশী রিয়া চৌধুরী এবং দুই বছরের তামিম। আর্তচিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর চারজনকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনের চিকিৎসা চলছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিষ্ণুপুরের বিডিও এবং বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামপ্রসাদ সাহা জানান, পরিবারটি আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও দ্বিতীয় কিস্তি এখনও পায়নি। পাশাপাশি, ওই এলাকায় নিকাশি নালার কাজও সম্পূর্ণ হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। আমডহরার এই শিশুর মৃত্যু ফের প্রশ্ন তুলল, প্রশাসনিক বিলম্ব কি কখনও কখনও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে ওঠে?

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment