---Advertisement---

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা মমতার, বেনজির সখ্যে দুই মেরু

By Suman Debnath

September 26, 2026 11:10 AM

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা মমতার, বেনজির সখ্যে দুই মেরু

---Advertisement---


নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বিরোধীরা একজোট হয়ে আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে। মামলা করা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দেশের নানা প্রান্তে আছড়ে পড়েছে আন্দোলন। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি। এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে। কিন্তু যে সিপিএমের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই তিনিই এবার টেলিফোন কথা বললেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে। নয়া এই সখ্য নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনীতির অলিন্দে।

বাংলায় ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম বিরোধী আন্দোলন করে উঠে এসে ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। ১৫ বছর সরকার চালিয়েছেন। তখন সিপিএম আবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছিল আন্দোলন। নানা অভিযোগ করেছিলেন সিপিএম নেতারা। সেখানে সিপিএম সখ্য বেনজির হিসাবেই দেখছেন অনেকে। সিপিএমকে সরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লড়াই লড়েছিলেন সেটা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা থাকবে। এবার বিজেপি বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সিপিএমের সঙ্গে এক পংক্তিতে দাঁড়ান তাহলে তা নতুন ইতিহাস তৈরি করবে। সেই পথেই কি এগোচ্ছেন মমতা? উঠছে প্রশ্ন।

এই প্রশ্ন ওঠার পিছনের কারণ হল, জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএমের সঙ্গে সান্নিধ্যে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হোক সে কথাও তাঁকে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। কিন্তু রাজ্যে সিপিএমের সঙ্গে আপাতত সান্নিধ্যে আসেননি তিনি। তবে তাঁদের নেতা-নেত্রীদের উপর হওয়া আক্রমণের বিরুদ্ধে পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটি ইংরেজি দৈনিকে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে খবর প্রকাশের দিনই রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে-সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে দেশের সব বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগেই চিঠি লিখেছিলেন এমএ বেবি। সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের চিঠির জবাবে পাল্টা চিঠিও দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকাকালীন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সিপিএমের সঙ্গে এক টেবিলে বৈঠকে বসলেও কখনও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নয়াদিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে আলাদা করে কথা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তখন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেবি এবং অভিষেকের কথাও হয়েছিল। এবার ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলিকেও নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে কাছে টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বেবি এবং মমতা বলে সূত্রের খবর। এখন এই সখ্য কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment