---Advertisement---

বাকি পাঁচ মামলায় আপাতত স্বস্তি মিলনের, কোনও পদক্ষেপ করবে না রাজ্য

By Suman Debnath

September 22, 2026 2:30 PM

বাকি পাঁচ মামলায় আপাতত স্বস্তি মিলনের, কোনও পদক্ষেপ করবে না রাজ্য

---Advertisement---


নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ত সময়ে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এখন জেলের গরাদে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছে রাজ্য। ফলে ওই মামলাগুলিতে এখনই গ্রেপ্তারির আশঙ্কা নেই। তবে যে দুই মামলায় তিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন, সেগুলিতে মঙ্গলবারই জামিনের আবেদন করা হবে বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন।

হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলনকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এবং কাঁথি আদালত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ফের তাঁকে আদালতে হাজির করানোর কথা। অথচ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হবে ৪ অক্টোবর। ভোট ৬ অক্টোবর। অর্থাৎ ভোটের ঠিক আগে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ সময়েই জেলের বাইরে থাকতে পারছেন না কংগ্রেস প্রার্থী।

এই পরিস্থিতিতে বাকি পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিলন। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগ করেন, ১৭ বছর পুরনো একটি মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে পুরনো মামলার পরোয়ানা কার্যকর হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার প্রশ্ন উঠছে।

রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অবশ্য জানান, পরোয়ানাটি ২০০৭ সালের হলেও তা আইন মেনেই কার্যকর করা হয়েছে। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর শুধু মিলনের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যদের বিরুদ্ধেও থাকা পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে বলে আদালতে জানায় রাজ্য। সেই সঙ্গে রাজ্যের বক্তব্য, বাকি পাঁচ মামলায় মিলন প্রধান মূল অভিযুক্ত নন। তাই ওই মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা হবে না।

এই বক্তব্যের পর মঙ্গলবার হাইকোর্ট জানায়, বাকি পাঁচ মামলায় এই মুহূর্তে কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের বাইরেও নন্দীগ্রামের এই নির্বাচনে মিলনের অনুপস্থিতি তৈরি করেছে এক অন্য ছবি। প্রার্থী জেলে, অথচ বাইরে ভোটের প্রচার থেমে নেই। এবার স্বামীর হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছেন মিলনের স্ত্রী। তাঁর ভিডিওবার্তাই হাতিয়ার হয়েছে কংগ্রেসের প্রচারে।

ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘পুজোর সময়ে মানুষ বাড়ি ফেরেন, নির্বাচনে ভোট দিতে যান, তখন কোনও পদক্ষেপ হয়নি।’ কিন্তু প্রার্থী হওয়ার পরই মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে স্বামীর পাশে থাকার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃশ্য অবশ্য একেবারে নতুন নয়। প্রায় তিন দশক আগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে প্রার্থী অধীর চৌধুরী জেলে থাকাকালীন তাঁর বক্তব্যের ক্যাসেট নিয়ে প্রচার চালিয়েছিল কংগ্রেস। এত বছর পর নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারি এবং তাঁর স্ত্রীর কণ্ঠে ভোটের আবেদন সেই পুরনো স্মৃতিকেই যেন ফিরিয়ে আনছে।

আরও পড়ুন: ‘পাথরসম্রাট’ টুলুর আবেদন খারিজ, নিম্ন আদালতের নির্দেশই বহাল হাইকোর্টের

এদিকে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী একটি কেন্দ্র ছাড়তে হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রামেই ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার হাইকোর্টে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কংগ্রেসের লড়াই ছিল এবং আছে। আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা ভরসা রয়েছে। আইনি এবং রাজনৈতিক দুটোই চলবে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment