ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় খালি করার নোটিস দিয়েছিল দমকল দপ্তর। এবার দমকলের সেই নির্দেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই অফিস খালি করার নির্দেশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দমকল বিভাগ যে নোটিস জারি করেছিল বুধবার সেটা পত্রপাঠ খারিজ করে দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের দেওয়া জবাব দমকলকে নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে এবং প্রয়োজনে আবার ওই ভবন পরিদর্শন করতে হবে। আগে দমকলের এই নোটিসের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বুধবার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, কালীঘাট তৃণমূলকে আবার নোটিস দিতে হবে দমকলকে। ওই নোটিসে জানাতে হবে দমকল কবে আবার ওই অফিস পরিদর্শন করবে। নোটিস দেওয়ার পর ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দপ্তরে যেতে হবে দমকলকে। তার পরে সুরক্ষার জন্য ওই অফিসে কী কী প্রয়োজন সেটা জানাতে হবে কালীঘাট তৃণমূলকে। দমকলের নির্দেশিকা মেনে সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি করতে হবে তৃণমূলকে। যদি ওই নির্দেশিকা না মানা হয় তাহলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে দমকল। আর আগের দেওয়া নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। তাতেই বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে দমকল বিভাগ।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতলের মালিককে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল, বহুতলের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা গাইডলাইন যথাযথ নেই। তাই সুরক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে সেটা খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই নোটিস পেয়েই বহুতলের মালিকপক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর খালি করার নির্দেশ দেয়। দমকলের দেওয়া ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দ্রুততার সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। অভিষেকের এই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে কদিন আগেই জোর চর্চা শুরু হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে। একের পর এক ঘটনা ঘটে সেখানে।
তাছাড়া ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের ঠিকানায় যে বহুতল আছে সেখানের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় তৃণমূল সাংসদের দপ্তর। সেখান থেকে বিলবোর্ড খুলে আনতে গিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। তখন পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক অনুগামীদের বচসা বাধে। ওই আবহে দমকল বাহিনী যায় ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনে। ওই ভবনের সব ক’টি তলা ঘুরে দেখেন দমকল আধিকারিকরা। তারপরেই ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের মালিককে ওই দুটি তলা খালি করার নোটিস পাঠায় দমকল বিভাগ। এই মামলায় অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্ত। আর রাজ্যের হয়ে সওয়াল করে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিত মিত্র। দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের পরেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও দমকলের নোটিস এদিন খারিজ করে দিলেন।
Leave a Comment