বাংলা ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা (সিএবি)-র নির্বাচন সংক্রান্ত নথি পাঠানোয় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে আরও সক্রিয় কলকাতা পুলিশ। মামলার তদন্তে চিঠি বিতরণের দায়িত্বে থাকা সিএবির এক কর্মীকে তলব করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় তাঁকে ময়দান থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সিএবির কয়েকটি অনুমোদিত ক্লাবের প্রতিনিধিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নথি পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত একটি কুরিয়ার সংস্থার কয়েক জন আধিকারিককেও প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লালবাজার। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ময়দান থানার ওসি এবং অতিরিক্ত ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সিএবিতে যায়। সেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত নথি ও চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েক জন ক্লাবকর্তার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা। ওই সভাতেই সচিব, যুগ্মসচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে মনোনয়নপত্র পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।
কয়েক দিন আগে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সদস্য গৌতম দে ময়দান থানায় সিএবির কয়েক জন কর্তা এবং ডিটিডিসি কুরিয়ার সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট, ওয়াইএমসিএ, ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং-সহ পাঁচটি ক্লাবের ভোটারদের উদ্দেশে পাঠানো মনোনয়নপত্র নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছয়নি। বরং অন্য ঠিকানায় পাঠানো সেই নথি পরিচালন সমিতির সদস্যরা সংগ্রহ করেছেন।
অভিযোগ আরও, ওই পাঁচটি ক্লাবে নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে কুরিয়ার সংস্থার কনসাইনমেন্ট নম্বরের কোনও কার্যকর ‘ট্র্যাকিং হিস্ট্রি’ ছিল না। পাঁচটি পৃথক বুকিং রসিদের পরিবর্তে একটি মাত্র রসিদ তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। অথচ নথি সঠিক ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছেছে—নথিপত্রে এমনটাই দেখানো হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর।
এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই সিএবির চিঠি বিতরণ বিভাগের কর্মীদের নজরে রেখেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যেই এক জনকে বুধবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে নথি পাঠানোর গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও পরিকল্পিত কারচুপি হয়েছিল কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Leave a Comment