সোনামুড়া, ২৮ জুন: পারমিটবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোর দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে রবিবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সোনামুড়া মোটর স্ট্যান্ড। বৈধ পারমিটধারী দূরপাল্লার যানচালকরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সকাল থেকে প্রায় বেলা ১১টা পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য সোনামুড়া থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। অনেক যাত্রীকে বিকল্প যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত যানচালকদের অভিযোগ, সোনামুড়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় পারমিট ছাড়াই অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটো প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার সুযোগে এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করছে বলে দাবি তাদের। এর ফলে বৈধ কাগজপত্র, পারমিট, কর এবং অন্যান্য সরকারি নিয়ম মেনে চলা দূরপাল্লার যানচালকরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
চালকদের বক্তব্য, তারা সরকারের সমস্ত নিয়ম মেনে পারমিট সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু পারমিটবিহীন যানবাহন একই রুটে যাত্রী পরিবহন করায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। বাধ্য হয়েই নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাময়িকভাবে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রেখে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে সোনামুড়া মোটর স্ট্যান্ডে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর স্থানীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সোনামুড়া মণ্ডল সভাপতি শুভ্রজিৎ দাস, নগর পঞ্চায়েতের ভাইস-চেয়ারম্যান শাহজান মিয়া, বিএমএস সিপাহীজলা জেলা সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার, সোনামুড়া মোটর স্ট্যান্ডের সম্পাদক ইউসুফ মিয়া, সভাপতি সেলিম মৈশান-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও চালক প্রতিনিধিরা।
দীর্ঘ আলোচনায় চালকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শোনেন বিএমএস নেতৃত্ব। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, খুব শীঘ্রই মহকুমার বিভিন্ন এলাকার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংগঠনের প্রতিনিধি, জেলা নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ বৈঠকের আয়োজন করা হবে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
বিএমএস নেতৃত্ব আরও জানান, বৈধ পারমিটধারী যানচালকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা হবে। আইন মেনে পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।
বৈঠকে আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনরত চালকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং বেলা ১১টার পর থেকে ধীরে ধীরে পুনরায় যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। এরপর মোটর স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল শুরু হলে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের মধ্যে।
আন্দোলনকারী চালকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, প্রশাসন যদি দ্রুত পারমিটবিহীন ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে তারা বাধ্য হবেন। তাদের দাবি, সবার জন্য একই আইন কার্যকর করতে হবে এবং বৈধ পারমিটধারী পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে।
এদিকে কয়েক ঘণ্টার এই আন্দোলনের কারণে সাময়িকভাবে যাত্রী পরিষেবা ব্যাহত হলেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এখন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের উদ্যোগে এই সমস্যার কী সমাধান হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সোনামুড়ার পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের।
Leave a Comment