আগরতলা, ২২ জুলাই: ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান উৎসব খার্চি উৎসব -এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বুধবার। আগরতলায় খয়েরপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক চৌদ্দ দেবতা বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে সাতদিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শান্তি, সম্প্রীতি ও সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, খার্চি উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ত্রিপুরার বহুমাত্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই উৎসব রাজ্যের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতি বছর খার্চি উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থী চৌদ্দ দেবতা বাড়ি মন্দিরে সমবেত হন। এই উৎসব ত্রিপুরার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবছরও উৎসব সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, আগরতলার মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, মন্দির কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উৎসব উপলক্ষ্যে চৌদ্দ দেবতা বাড়ি মন্দির চত্বরে ইতিমধ্যেই বসেছে ঐতিহ্যবাহী মেলা। আগামী সাতদিন ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রিপুরার রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা খার্চি উৎসব শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তি, আস্থা ও উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠেছে খয়েরপুরের ঐতিহাসিক চৌদ্দ দেবতা বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ।
Leave a Comment