৭৫ লক্ষ টাকার ডিপ টিউবওয়েল অকেজো! জলকষ্টে কালাঝাড়ির সাধু চন্দ্র পাড়ার ৬৫ রিয়াং পরিবার

গণ্ডাছড়া, ৬ অক্টোবর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন উচ্ছ্বাস, তখনই দুর্গম এলাকার পানীয় জলের সমস্যা ফের সামনে এসেছে। গণ্ডাছড়া মহকুমার কালাঝাড়ি এডিসি ভিলেজের সাধু চন্দ্র পাড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ডিপ টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাড়াটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৫টি রিয়াং পরিবারের বসবাস। গণ্ডাছড়া মহকুমা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন বাসিন্দারা। ছড়া-নালা ও মাটির কুয়ার জল ব্যবহার করেই দৈনন্দিন পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালে পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সেই টিউবওয়েলের জল সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারেননি বলে অভিযোগ।

বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তা নির্মাণের সময় মাটি কাটার ফলে টিউবওয়েলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, পাইপলাইনটি পর্যাপ্ত গভীরে স্থাপন করা না থাকায় সামান্য মাটি কাটার কাজেই সেটি কেটে যায়। এরপর একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাইপলাইন মেরামতের দাবি জানানো হলেও এখনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ফলে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বদলে বাস্তবে জল সংগ্রহের জন্য এখনও পুরনো মাটির কুয়ার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। স্থানীয়দের দাবি, পুকুরের পাশে প্রায় ১০০ মিটার নিচে থাকা একটি মাটির কুয়া থেকে জল সংগ্রহ করে পানীয় জল, রান্না এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

শুধু পানীয় জলই নয়, পুকুরের জল দিয়েই স্নান, কাপড় ধোয়া ও বাসনপত্র পরিষ্কারের কাজও করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে জলবাহিত রোগের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের দাবি, দূষিত জল ব্যবহারের কারণে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপও দেখা যায়। এসব দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ অবশ্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পাইপলাইন সংস্কার করে ডিপ টিউবওয়েলটি চালু করা হোক এবং সাধু চন্দ্র পাড়ার দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর কবে এই অকেজো ডিপ টিউবওয়েল ও পাইপলাইন সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এবং কবে থেকে সাধু চন্দ্র পাড়ার বাসিন্দারা প্রকল্পটির সুবিধা পান।

Leave a Comment