আগরতলা, ১৪ অক্টোবর: দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে কাজের বকেয়া বিল না পাওয়ার অভিযোগে বিশ্রামগঞ্জের পূর্ত দপ্তরের অধীন ডি.ডব্লিউ.এস. (DWS) কার্যালয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন ঠিকাদাররা। বুধবার বকেয়া বিল পরিশোধের দাবিতে কার্যালয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারকে ঘেরাও করার পর গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে নতুন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, পূর্ত দপ্তরের অধীন DWS-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কাজ সম্পন্ন করার পরও তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল আটকে রয়েছে। কয়েক দিন আগে কিছু অর্থ ছাড় করা হলেও সেই টাকা এখনও তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি বলে দাবি করেন তাঁরা। এর ফলে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন বহু ঠিকাদার।
এদিকে, দপ্তরের বর্তমান এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুবীর দাসের বদলি এবং নতুন ইঞ্জিনিয়ারের যোগদানকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার নতুন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার যোগদান করতে এলে তাঁকে গেট থেকেই ফিরিয়ে দেন বিক্ষোভকারী ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে বহিঃরাজ্যের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই বদলি করা হয়েছে। যদিও তাঁদের এই অভিযোগের বিষয়ে দপ্তর বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জেলাশাসককে ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের বকেয়া বিল আটকে থাকার কারণ স্পষ্ট করতে হবে। কেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে না, তার সদুত্তরও দাবি করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পুরনো এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুবীর দাস এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য দিতে চাননি বলে অভিযোগ। তিনি বারবার জানান, সব ফাইলে স্বাক্ষর করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, সমস্ত ফাইলে স্বাক্ষর করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে পুরনো এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বদলি আপাতত এক থেকে দেড় মাসের জন্য স্থগিত রাখার দাবিও তুলেছেন ঠিকাদাররা। তাঁদের বক্তব্য, বকেয়া বিলের সমস্যা সমাধান না করে নতুন ইঞ্জিনিয়ারের যোগদান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সব মিলিয়ে, বিশ্রামগঞ্জ DWS কার্যালয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। এখন দেখার, ঠিকাদারদের বকেয়া বিলের সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
Leave a Comment