আগরতলা, ১৩ জুলাই : সোমবার সকালে আচমকাই রাজ্যের প্রধান সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জিবিপি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে এবং স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফর ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে তৎপরতা সৃষ্টি হয়।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে মনে করা হচ্ছে জিবিপি হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো, পরিষেবার মান এবং রোগীদের ভোগান্তির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতেই তিনি সেখানে যান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য সরকার জিবিপি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং ফ্যাকাল্টিদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে হাসপাতালের বহির্বিভাগে (ওপিডি) রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী ও তাঁদের পরিজনদের ভোগান্তির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর জিবিপি হাসপাতালে উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিষেবা সংক্রান্ত নানা বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি এক্স-রে ইউনিট, টিকিট কাউন্টার, রোগী পরিষেবা কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
শুধু পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের কর্মী, চিকিৎসক এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পরিজনদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকে পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ প্রদান করেন বলেও জানা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফরের পর জিবিপি হাসপাতালের পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশাবাদী রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ।
Leave a Comment