আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে ত্রিপুরা বিধানসভা অধিবেশন। তার আগে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা এবং বকেয়া ১৯ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে প্রদানের দাবিতে রাজপথে নামল বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন। রবিবার আগরতলা শহরে ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে একটি মিছিল ও সভার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ১৯ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে কেন্দ্রের ধাঁচে রাজ্যেও দ্রুত অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।
এদিন মিছিলটি আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে প্যারাডাইস চৌমুহনি এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সংগঠনের নেত্রী মহুয়া রায়সহ অন্যান্য নেতৃত্বও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা রাজ্যের বিজেপি, তিপরা মথা ও আইপিএফটি জোট সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিক্ষক, কর্মচারী ও বেকার যুবকদের উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে চার থেকে পাঁচ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, একসময়ের সুশৃঙ্খল বিদ্যুৎ সংস্থাকে বর্তমান সরকার ঘাটতি ও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিদ্যুৎ মাশুল ও বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মানুষের প্রতিবাদের মুখে সরকার ১০০ শতাংশ ভর্তুকির ঘোষণা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বিরোধী দলনেতা বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন কোনোভাবেই স্তব্ধ করা যাবে না। কর্মসূচির শেষে ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি সনদ বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দাবি সনদ গ্রহণ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী কর্মচারীদের আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভা অধিবেশনে তিনি এই বিষয়গুলি নিয়ে বিধানসভায় সোচ্চার হবেন।
উল্লেখ্য, মহার্ঘ ভাতা, বেতন কমিশন এবং কর্মচারীদের অন্যান্য দাবি নিয়ে বিধানসভা অধিবেশনের আগে এই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




Leave a Comment