আগরতলা, ২৪ আগস্ট: শনিবার রাতে কয়েক ঘণ্টার টানা ও প্রবল বর্ষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সদর ও জিরানিয়া মহকুমার একাধিক এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও ত্রাণ শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। ত্রাণ শিবিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলার কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের আধিকারিকরা মাঠে থেকে কাজ করছেন।
তিনি জানান, প্রবল বর্ষণের জেরে হাওড়া নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ধীরে ধীরে নদীর জলস্তর নামতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান। বন্যাদুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খোয়াই ও পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় মোট ১৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে ৪১৩টি পরিবারের মোট ১ হাজার ৩০৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকা।
এদিকে, ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হাওড়া নদীর বাঁধ আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জলস্তর স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার কাজও শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Comment