কলকাতা ফুটবল লিগে ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর এবার রেলওয়ে এফসি-র বিরুদ্ধেও তিন পয়েন্ট তুলে নিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শনিবার ঘরের মাঠে কঠিন লড়াইয়ের শেষে জেসিন টিকের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পেল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে কলকাতা লিগে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াল বিনো জর্জের দল।
শুরু থেকেই আক্রমণে ইস্টবেঙ্গল
ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। সামনে ছিলেন জেসিন টিকে এবং চাকু মাণ্ডি। যদিও এদিন তন্ময় দাস ও পি. ভি. বিষ্ণু প্রথম একাদশে ছিলেন না, তবুও আক্রমণের ধার কমেনি।
শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবলে রেলওয়ে এফসি-কে চাপে রাখে লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু একাধিক সুযোগ তৈরি করেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা মেলেনি। ওপেন হেডার-সহ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা।
রেলেরও পাল্টা লড়াই
রেলওয়ে এফসি শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল তারা।
তবে বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে ইস্টবেঙ্গলই ম্যাচে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। রেলওয়ের সংগঠিত রক্ষণ প্রথম ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লাল-হলুদদের আটকে রাখতে সফল হয়।
পেনাল্টি থেকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পট-কিক থেকে নিখুঁত শটে জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন জেসিন টিকে।
গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রেলওয়ে এফসি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ কোনও সুযোগ দেয়নি।
ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট
গোলের পর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিজেদের হাতে রাখে বিনো জর্জের দল।
৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করার দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি জেসিন। এরপর ৭৫ মিনিটে দূরপাল্লার একটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল হয়নি।
টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসী লাল-হলুদ
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল। টানা তিন ম্যাচে তিনটি জয় তুলে নিয়ে কলকাতা লিগে নিজেদের দুর্দান্ত ছন্দ বজায় রাখল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
আক্রমণে সুযোগ নষ্টের কিছু আক্ষেপ থাকলেও রক্ষণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে সন্তুষ্ট থাকবেন কোচ বিনো জর্জ। কলকাতা লিগের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই জয় লাল-হলুদ শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।
Leave a Comment