উৎসবের মরশুমে শব্দ ও বায়ুদূষণ রুখতে কড়া নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। মহারাষ্ট্র জুড়ে ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের অনুষ্ঠানে রাস্তায় বা অন্য কোনও প্রকাশ্য জায়গায় আতসবাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ করল আদালত। একইসঙ্গে লেজার আলো, উচ্চমাত্রার লুমেন লাইট এবং বিম ব্যবহারের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিয়মও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও অনুষ্ঠান বা শোভাযাত্রায় ডেসিবেল মিটার বসাতে হবে এবং এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ সহজেই শব্দের মাত্রা পরিমাপ করতে পারে। সাউন্ড সিস্টেমে শব্দ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র বা সাউন্ড লিমিটার থাকবে – এই মর্মে আয়োজকদের অঙ্গীকারপত্রও দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান বা শোভাযাত্রার অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়োজক সংগঠনকে ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা আগে থেকে জমা রাখতে হবে। কোনও ব্যক্তি আয়োজন করলে সেই অঙ্ক হবে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা। যাতে নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘন করা হলে এই টাকা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। আয়োজকদের অনুমতিপত্রও প্রকাশ্যে দেখাতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানাতে হবে, যাতে নিয়ম ভাঙলে দায় নির্দিষ্ট করা যায়।
একই এলাকায় একাধিক শোভাযাত্রা বা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে আদালত। একটি ওয়ার্ডে একাধিক অনুষ্ঠানের ফলে সব মিলিয়ে কতটা শব্দদূষণ হতে পারে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করেই অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার হলে তা বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসব চলছে বলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম শিথিল হবে না। এর আগে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক আইন ও আদালতের নির্দেশ থাকলেও সেগুলি কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে বেঞ্চ। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে হবে না, বাস্তবেও তা কার্যকর করতে হবে।
বাজি থেকে হওয়া বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বর্ষার পর শহরে ধোঁয়া ও দূষণ বাড়ার সময়ে আতসবাজির ধোঁয়া বায়ুর মান আরও খারাপ করতে পারে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। শব্দদূষণের প্রভাব প্রবীণ, অসুস্থ মানুষ, শিশু এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের উপর পড়ে বলেও উল্লেখ করেছে আদালত।
নিয়ম ভাঙলে নয়েজ পলিউশন রুলস্, ২০০০, পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১৫ অক্টোবর।









Leave a Comment