মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতেই জয়ের হাসি মোহনবাগান (Mohun Bagan Super Giant)-এর। ডুরান্ড কাপ (Durand Cup)-এর গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)-কে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করল সবুজ-মেরুন শিবির। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সাহাল আবদুল সামাদ। তবে জয়ের পরও উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে বাস্তববাদী বার্তা দিলেন নতুন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস (Panagiotis Dilberis)। অন্যদিকে প্রথম ডার্বিতেই হারলেও দলের লড়াই ও মানসিকতায় সন্তুষ্ট প্রাক্তন মোহনবাগান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস (Antonio Lopez Habas)।
৫২ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের করা গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচ শেষে সেই গোল স্ত্রীকে উৎসর্গ করেন ভারতীয় মিডফিল্ডার। তাঁর কথায়, দলে একাধিক নতুন ফুটবলার এবং নতুন কোচ যোগ দেওয়ায় এখনও দল গুছিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে লক্ষ্য একটাই—এই মরশুমে যত সম্ভব ট্রফি জয় করা। সাহাল জানান, কোচ শুরু থেকেই ফুটবলারদের বুঝিয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি ম্যাচই ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও আত্মসমালোচনায় ছিলেন সাহাল। তিনি বলেন, নিজের খেলায় তিনি কখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। আরও উন্নতি করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখতে চান। ম্যাচের বিতর্কিত হ্যান্ডবল প্রসঙ্গেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
কলকাতা ময়দানে প্রথম ম্যাচেই ডার্বি জিতে আত্মপ্রকাশ করলেও পা মাটিতেই রাখতে চান মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস, যাঁকে সমর্থকেরা ইতিমধ্যেই ‘প্যানোস’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় না পাওয়ায় দল নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি। তাঁর মতে, প্রথম ৬০ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মোহনবাগানের হাতেই। পরে কিছুটা ক্লান্তির কারণে ছন্দে ভাটা পড়ে।
দল ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেনি বলেও স্পষ্ট করেন প্যানোস। তিনি বলেন, সামনে আরও সময় রয়েছে এবং পরের ম্যাচে দলকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী রূপে দেখা যাবে। গোলকিপার বিশাল কাইথ (Vishal Kaith)-এর প্রশংসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভালো পারফরম্যান্স করাই একজন গোলকিপারের দায়িত্ব। তবে শুধুমাত্র একজন ফুটবলারের প্রশংসায় সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা দলকেই আরও উন্নতি করতে হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আসে তাঁর শেষ বক্তব্যে। প্যানোস বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবলই আমার কাছে ধর্ম। সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক, তাই দলকে আরও উন্নতি করতে হবে।” নতুন কোচের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ডার্বি হারলেও হতাশার মাঝেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তিনি জানান, বিদেশি ফুটবলাররা মাত্র একটি অনুশীলন সেশন করেছেন। ফলে দলকে পুরোপুরি চিনে ওঠার সুযোগ এখনও হয়নি। তবুও দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে ইস্টবেঙ্গল, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
হাবাসের দাবি, ফলাফল হতাশাজনক হলেও দলের লড়াইয়ের মানসিকতা তাঁকে সন্তুষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তিনি রেফারিং নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একটি ফাউলের ঘটনায় শুভাশিস বোস (Subhasish Bose)-কে শুধু হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, যেখানে লাল কার্ডও হতে পারত।
তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করতেও ভোলেননি স্প্যানিশ কোচ। তাঁর মতে, বিশাল বর্তমানে ভারতের সেরা গোলকিপারদের একজন। পাশাপাশি তিনি জানান, নতুন বিদেশি ডিফেন্ডার নাচো মনসালভে (Nacho Monsalve) সোমবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন এবং আরও একজন বিদেশি ফুটবলারকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মরশুমের প্রথম ডার্বিতে মোহনবাগানের জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াল, তেমনই ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই হার ভবিষ্যতের উন্নতির দিকনির্দেশনা হয়ে রইল। দুই নতুন কোচের দর্শন ও পরিকল্পনা আগামী ম্যাচগুলিতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের।
Leave a Comment