বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী। ২০১০ সালে ‘পল দ্য অক্টোপাস’-এর ভবিষ্যদ্বাণী যেমন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়েছিল, তেমনই এবারও ফাইনালের আগে নজর কেড়েছে দুই ‘জ্যোতিষী’ প্রাণী। থাইল্যান্ডের জলহস্তী ‘মু ডেং’ এবং স্পেনের জিরাফ ‘ফালি’ নিজেদের মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে— তবে দু’জনের পছন্দ একেবারেই আলাদা।
বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং লামিন ইয়ামালের স্পেন। ম্যাচের আগে দুই দেশের পতাকা লাগানো খাবারের মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে দেওয়া হয় প্রাণীগুলিকে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিল ‘মু ডেং’
ব্যাংকক থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের একটি চিড়িয়াখানায় রয়েছে জনপ্রিয় জলহস্তী ‘মু ডেং’। ফাইনালের আগে তার সামনে রাখা হয় দুটি তরমুজ— একটিতে আর্জেন্টিনার পতাকা, অন্যটিতে স্পেনের। ‘মু ডেং’ কোনও দ্বিধা না করেই আর্জেন্টিনার পতাকা লাগানো তরমুজটি বেছে নেয়। সেই থেকেই অনেকে মজা করে বলতে শুরু করেছেন, জলহস্তীর মতে এবার বিশ্বকাপ জিতবেন মেসিরা।
তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি শুধুই দর্শকদের বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয়েছে। কোনও দলকে সমর্থন করা বা জুয়াকে উৎসাহ দেওয়া এর উদ্দেশ্য নয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ডে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে আগের ভবিষ্যদ্বাণী মিলেনি
যদিও ‘মু ডেং’-এর ভবিষ্যদ্বাণী সবসময় সঠিক হয়নি। এর আগে সে দাবি করেছিল, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। বাস্তবে সেই পূর্বাভাস সত্যি হয়নি। তাই এবার তার ভবিষ্যদ্বাণী কতটা মেলে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
স্পেনের পক্ষেই ‘ফালি’
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের মুরসিয়ার টেরা ন্যাচুরা চিড়িয়াখানার জিরাফ ‘ফালি’ বরাবরই স্পেনকে সমর্থন করেছে। এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচের আগে পতাকা বাছাইয়ে সে স্প্যানিশ পতাকাকেই বেছে নিয়েছিল। ফাইনালের আগেও তার সিদ্ধান্ত বদলায়নি। এবারও ‘ফালি’ স্পেনের পতাকাই বেছে নিয়েছে।
ফলে জিরাফের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ অনুযায়ী, ইয়ামালদের হাতেই উঠতে পারে বিশ্বকাপের ট্রফি।
শেষ কথা বলবে মাঠ
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী নিছকই বিনোদনের অংশ। মাঠের ৯০ মিনিটেই ঠিক হবে কে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। ‘জ্যোতিষী’ জলহস্তী না জিরাফ— কার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে, তার উত্তর মিলবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরেই।
Leave a Comment