---Advertisement---

‘জ্ঞানেশ কুমার দেশদ্রোহী’, রাজধানী থেকে তুমুল আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা

By Suman Debnath

September 24, 2026 7:45 PM

‘জ্ঞানেশ কুমার দেশদ্রোহী’, রাজধানী থেকে তুমুল আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা

---Advertisement---


এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। তাঁদের মতামতের কোনও গুরুত্ব না দিয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকী তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে বলে দাবি দুই নির্বাচন কমিশনারের। এই খবর প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে। তার পর থেকেই গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগের ওঠায় বিজেপি এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তুমুল আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তত ১৪টি নীতিগত সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলে চিঠি দিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাঁদের অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে নিজের ইচ্ছেমতো সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার বলে অভিযোগ। এদিন এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধীর তোপ, ‘ভোট চুরি করা হচ্ছে। যার ফলে সাংসদদের তৈরি আইনগুলিও বেআইনি হয়ে পড়ছে। জ্ঞানেশ কুমার দেশদ্রোহী। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাহুলের হুঙ্কার, ‘ভারতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেখে কংগ্রেস হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।’

অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়াতে নানা কারচুপি হয়েছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছেন। আবার ইনপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীরা। এদিন ককরোচ জনতা পার্টি সাংবাদিক বৈঠক করে নয়াদিল্লি থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। না হলে আন্দোলনে নামবেন জেন-জিরা। সুতরাং প্রতি মুহূর্তে জ্ঞানেশ কুমারের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। সেখানে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০ আসন পাবে বলেছিল। গণতন্ত্রে কোনও রাজনৈতিক নেতাই এতটা নিশ্চিত হতে পারেন না। কারণ সেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের মতো একটি মৌলিক বিষয় কাজ করে।’

তাছাড়া তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এদিন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়। আর এক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে রাহুল গান্ধী চোখা চোখা বাক্যবাণে জ্ঞানেশ কুমার এবং মোদী-শাহকে আক্রমণ শানিয়েছেন। রাহুলের নিশানা, ‘গত ৫০ বছর ধরে হরিয়ানায় কখনও এক দল তো কখনও অন্য দল ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের বিষয়টি উধাও হয়ে যায়। মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। হঠাৎ করেই সেই প্রবণতা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টি থেকে বহুজন সমাজ পার্টি- ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। কিন্তু সেখানেও সেই জনরোষের বিষয়টি আর দেখা যায় না। আর এটিই আমাদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন। আমরা কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বুঝতে পারি, সরকারের কাজকর্মও বুঝতে পারি। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষের বিষয়টি কীভাবে উধাও হয়ে যায় সেটা আমরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না। এটাই ‘ভোট চুরি’। ‘ভোট চুরি’ থেকে জন্ম নেয় ‘আইন চুরি’, আর তা থেকে আসে ‘প্রতিষ্ঠান চুরি’।’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment