গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জুডোয় সোনালি ইতিহাস। অস্মিতা দে ও হর্ষ সিং জোড়া সোনা জিতে দেশের জন্য নতুন রেকর্ড গড়লেন।
ভারতের জুডো ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games)-এর এই দিনটি। শুক্রবার মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে অস্মিতা দে (Asmita Dey) এবং পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে হর্ষ সিং (Harsh Singh) সোনা জিতে একসঙ্গে ইতিহাস গড়লেন। প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসে জুডো থেকে ভারতের ঝুলিতে এল দুটি সোনার পদক, যার মধ্যে অস্মিতা দেশের প্রথম মহিলা এবং হর্ষ প্রথম পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
২৩ বছরের অস্মিতা ফাইনালে কানাডার হেইডি কুয়াচ (Heidi Quach)-এর বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েন। শুরুতেই একটি ইউকো হারিয়ে এবং পরে পেনাল্টি পাওয়ায় তিনি পিছিয়ে পড়েছিলেন। তবে ম্যাচের মাঝামাঝি সময় থেকে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে লড়াইয়ে ফিরে আসেন এবং স্কোর ১-১ সমতায় আনেন।
নির্ধারিত চার মিনিটে কোনও প্রতিযোগীই জয়সূচক পয়েন্ট তুলতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোর (Golden Score)-এ। সাডেন-ডেথ পরিস্থিতিতে অস্মিতা অসাধারণ ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত আর একটি ইউকো অর্জন করে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ভারতের জুডো ইতিহাসে প্রথম কমনওয়েলথ সোনা নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে ভারতের সাফল্যের রেশ আরও গাঢ় করেন হর্ষ সিং। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগের ফাইনালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অলিম্পিয়ান জোশুয়া ক্যাটজ (Joshua Katz)-কে হারিয়ে সোনার পদক জেতেন। ওয়াজা-আরি (Waza-ari) পেয়ে ১০-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ভারতীয় জুডোকা।
পুরো ম্যাচেই ক্যাটজ শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ছিলেন। কিন্তু হর্ষ ঠান্ডা মাথায় প্রতিটি আক্রমণ সামলে পাল্টা সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যান। একসময় অস্ট্রেলিয়ান প্রতিপক্ষ তাঁকে পিন করার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও দক্ষতায় পরিস্থিতি সামলে নেন ভারতীয় জুডোকা।
ম্যাচের শেষ মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে দুর্দান্ত একটি থ্রো ও পিনের মাধ্যমে ওয়াজা-আরি আদায় করেন হর্ষ। সেই একটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং নিজের অভিষেক কমনওয়েলথ গেমসেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য তুলে নেন ২৩ বছরের এই ভারতীয়।
একদিনে জোড়া সোনা ভারতের জুডোকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং শুধু পদকই জেতেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ জুডো প্রজন্মের জন্যও নতুন দিশা দেখিয়ে গেলেন। গ্লাসগো থেকে এই সাফল্য ভারতীয় ক্রীড়ার জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
Leave a Comment