মণিপুর, ১৭ অক্টোবর: গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মণিপুরের উখরুল জেলায় অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (UNLF)-এর সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে অসম রাইফেলস। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে নিরাপত্তা আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠনগুলির জোট জি-৫ (G-5)-এর যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, জি-৫ হল মণিপুরের পাঁচটি সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনের একটি জোট। এই জোটের অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলি হল ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (UNLF), কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (KCP), কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (KYKL), পিপলস রেভল্যুশনারি পার্টি অব কাংলেইপাক (PREPAK) এবং PREPAK (Pro)।
এই সংগঠনগুলির বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান, তোলাবাজি এবং একাধিক বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএনএলএফ মণিপুরের উপত্যকা অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন বিদ্রোহী সংগঠন। ২০২৩ সালে সংগঠনটির একটি গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকার ও মণিপুর সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র কার্যকলাপ পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।
তবে নিরাপত্তা আধিকারিকদের অভিযোগ, শান্তিচুক্তির পরেও সংগঠনের কিছু সদস্য অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে হুমকি ও তোলাবাজির মতো কার্যকলাপে জড়িত রয়েছেন। ভারত-মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও তাঁদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জি-৫ জোটের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী শুমাং লীলা নাট্যদল এবং সাংগাই উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই জোটের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, শুমাং লীলা মণিপুরের একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারা। এই নাটকের মাধ্যমে মাদকাসক্তি, এইচআইভি এবং সামাজিক নানা সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে মায়ানমার সীমান্তবর্তী উখরুল জেলায় অসম রাইফেলসের একটি কনভয়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়।
যদিও কোনও সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ঘটনার সঙ্গে জি-৫ জোটের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে আধিকারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আটক সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি, জি-৫ জোটের সদস্যদের বিরুদ্ধে মণিপুরের যুবকদের সংগঠনে নিয়োগ করে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে মায়ানমারের বিভিন্ন শিবিরে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি এমনই একটি নিয়োগচক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।
মণিপুরে সশস্ত্র সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রতিবেদন: Tripura TV News Desk | সূত্র: IANS
Leave a Comment