গ্যাসকে অবহেলা করে বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো ?

By Suman Debnath

October 30, 2026 1:35 PM


স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ মানুষ দিনে ১৪ থেকে ২৩ বার গ্যাস ত্যাগ করেন। কিন্তু যদি গ্যাস হয় অতিরিক্ত, ব্যথাযুক্ত বা প্রায় নিয়মিত সঙ্গী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অফিসের মিটিং হোক বা পারিবারিক ভোজ—হঠাৎ পেটের ভিতর গুড়গুড় করে ওঠে ? অস্বস্তিকর ফাঁপা ভাব মনে হয়? এই ধরণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কমবেশি সকলেই পরিচিত। পেটে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যাকে আমরা প্রায়শই হালকাভাবে নিই। কখনও আবার এটা নিয়ে আবার অনেকে মজা করে থাকেন। আবার অনেকসময় সামাজিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকরা মনে করছেন, এই ‘নীরব গ্যাস বেলুন’ বহু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ মানুষ দিনে ১৪ থেকে ২৩ বার গ্যাস ত্যাগ করেন। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি গ্যাস হয় অতিরিক্ত, ব্যথাযুক্ত বা প্রায় নিয়মিত সঙ্গী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সামান্য খাদ্যাভ্যাস বদল করলেই এই সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন:  গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন সহজেই

কেন এই গ্যাস?
গ্যাস মূলত দু’ভাবে শরীরে ঢোকে।

১, বাতাস গিলে ফেলা- দ্রুত খাওয়া, চুইংগাম চিবোনো, স্ট্র দিয়ে পানীয় খাওয়া বা সোডা খাওয়ার ফলে—এসবের সঙ্গে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পেটে ঢুকে পড়ে পেটে।

২. অন্ত্রে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া- হজম না হওয়া কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার বা চিনি যখন বৃহদন্ত্রে পৌঁছয়, তখন ব্যাকটেরিয়া সেগুলি ভেঙে হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন তৈরি করে।

বিশেষ করে ফোডম্যাপ জাতীয় কার্বোহাইড্রেট যেমন গম, পেঁয়াজ, রসুন, কিছু ফল, হঠাৎ বেশি ফাইবার খাওয়া, কিংবা তাড়াহুড়ো করে খাবার—সবমিলিয়ে ব্যাপকভাবে গ্যাস বাড়ে।

সমাধানের পথ

গ্যাস মানেই সারা জীবনের অস্বস্তি—এমনটা নয়। কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করলেই স্বস্তি মিলতে পারে।

ডাল বা ছোলা খেলে সমস্যা হচ্ছে, এমনটা বোধ হলে রাতভর ভিজিয়ে রেখে জল ফেলে রান্না করুন। অঙ্কুরিত করলে আরও ভাল। এতে গ্যাস তৈরির শর্করা অনেকটাই কমে যায়।
রান্নায় ফিরিয়ে আনতে হবে জোয়ান, হিং, জিরে, মৌরির মতো সামগ্রী। এগুলি অন্ত্রকে শিথিল করে ও হজমে সাহায্য করে।
গ্যাস আটকে গেলে নি টু চেস্ট স্ট্রেচ করতে পারেন। অর্থাৎ আগে একটি সমান জায়গায় শুয়ে একটি হাঁটু বুকে টেনে ধরতে হবে।

আরও পড়ুন:  ঘুমানোর আগে ফোন ছেড়ে শুধু ৫ মিনিট! মন শান্ত হবে, ঘুম আসবে দ্রুত

অবহেলা করলেই বিপদ?
রোজ অ্যান্টাসিড খেলে এই সমস্যাকে শুধুমাত্র চাপা দেওয়া যায়। দীর্ঘদিন গ্যাস মানে হতে পারে SIBO (স্মল ইনটেস্টাইনাল ব্যাকটেরিয়াল ওভারগ্রোথ), যেখানে ভুল ব্যাকটেরিয়া বেড়ে অপুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি করে। দীর্ঘদিন ধরে পেট ফাঁপায় ভুগলে, কখনও কখনও ডিম্বাশয় বা কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত চাপ পড়লে বৃহদন্ত্রে ছোট থলি তৈরি হয়, যা সংক্রমিত হলে ডাইভার্টিকুলাইটিসের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তার সঙ্গে গাট-ব্রেন অ্যাক্সিসের কারণে দীর্ঘদিনের গ্যাসে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

সবমিলিয়ে অল্প গ্যাস ঠিক আছে।  কিন্তু অতিরিক্ত গ্যাস হলেই শরীরে অ্যালার্ম দিচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেও যদি সমস্যা না কমে, তাহলে নিজে ডাক্তারি করবেন না। দ্রুত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সুস্থ অন্ত্রই সুস্থ জীবনের ইঞ্জিন। তাকে অবহেলা করলে গোটা জীবনটাও থমকে যেতে পারে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment