---Advertisement---

মায়ের দুধ: শিশুর পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির উৎস

By Suman Debnath

August 1, 2026 1:50 PM

মায়ের দুধ: শিশুর পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির উৎস

---Advertisement---


বিশ্বজুড়ে আজ ১ আগস্ট পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, যা চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত। শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং স্তন্যদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়েছে।


প্রতি বছর ১ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা হয়। শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং মা-শিশুর নিবিড় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।


বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এ বছর সপ্তাহটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।


১৯৯০ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে ইনোসেনটি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফ যৌথভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। পরবর্তীতে ১ থেকে ৭ আগস্টকে বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ সময় মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মায়ের দুধ নবজাতকের জন্য সবচেয়ে আদর্শ ও নিরাপদ খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমায়। একই সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। এছাড়া নিয়মিত স্তন্যদান মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধই শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।


বিভিন্ন গবেষণা বলছে, মাতৃদুগ্ধ শিশু মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, একজিমা, অ্যালার্জি, স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে। এছাড়া মাতৃদুগ্ধ পান করা শিশুদের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।

আরও পড়ুন:  জামাই ষষ্ঠীর পূজার নিয়ম: কীভাবে করবেন ষষ্ঠী দেবীর পুজো? জেনে নিন সম্পূর্ণ বিধি


শালদুধ হলো প্রকৃতির প্রথম টিকা


জন্মের পরপরই শিশুর জন্য সবচেয়ে মূল্যবান খাদ্য হলো শালদুধ। প্রথম ছয় মাসের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান মায়ের দুধে থাকলেও জন্মের পর বের হওয়া ঘন হলুদ রঙের শালদুধকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


আগে অনেক পরিবারে কুসংস্কারের কারণে শালদুধকে নষ্ট দুধ মনে করে ফেলে দেওয়া হতো। এখনো অনেক জায়গায় এ ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অথচ শালদুধে থাকা অ্যান্টিবডি, ভিটামিন ‘এ’ ও প্রোটিন নবজাতককে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি এটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


মায়ের স্বাস্থ্যে মাতৃদুগ্ধের উপহার


মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সুফল শুধু শিশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মায়ের জন্যও সমানভাবে উপকারী। নিয়মিত স্তন্যদান করলে প্রসবের পর জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমে।


এ সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে মা ও শিশুর মধ্যে গভীর আবেগীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদে স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।


তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা নিশ্চিত করলেও এখনো অনেক শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পায় না। এর পেছনে রয়েছে ভুল ধারণা, পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং ফর্মুলা মিল্কের অতিরিক্ত প্রচারণা।


এ ছাড়া কর্মজীবী মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মস্থলে ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও দুধ সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে শিশুকে ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে শুরু করেন। গণপরিবহন ও জনসমাগমস্থলেও নিরাপদ স্তন্যদান পরিবেশের অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় মাশরুম


প্রয়োজন যৌথ দায়িত্বের


বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো শুধু মায়ের একার দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। গর্ভাবস্থা থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষ করে বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত মাকে মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা। কর্মক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধবান্ধব পরিবেশ, ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্টফিডিং স্পেস নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গুঁড়ো দুধের অপ্রয়োজনীয় প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচলিত আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে মায়েদের আরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের একই বিছানায় ঘুমানো, উপকার বেশি নাকি ক্ষতি


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের প্রথম কয়েক মাসই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে মা ও শিশুর জন্য পরিবারের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। তাই মাতৃদুগ্ধ পানের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা শুধু একটি দিবস পালনের বিষয় নয়; এটি সুস্থ, মেধাবী ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।


তরুণদের মাঝে বাড়ছে ডায়াবেটিস, প্রতিরোধে করণীয়


বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবসে প্রত্যেক নবজাতকের মাতৃদুগ্ধ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সুস্থ ও সবল শিশু গড়ে উঠলেই ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।


জানা গেছে, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।


আমার বাঙলা/ তালহা

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment