জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা হলেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারের নিয়ম না মানলে অজান্তেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে একই উপাদানযুক্ত একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, মদ্যপান বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই লিভারের রোগের জন্য দায়ী নয়, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনও লিভারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মুম্বাইয়ের চিকিৎসক ডা. ভূষণ ভোলে বলেন, প্যারাসিটামল সাধারণত নিরাপদ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় বা প্যারাসিটামলযুক্ত একাধিক ওষুধ একসঙ্গে সেবন করলে লিভারের গুরুতর ক্ষতি এমনকি অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউরের মতো জটিল অবস্থাও তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ সাধারণত পাকস্থলী, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যার জন্য পরিচিত হলেও দীর্ঘদিন বা উচ্চমাত্রায় সেবনে এগুলোও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত মাত্রার বেশি প্যারাসিটামল সেবনকারী, একাধিক প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণকারী, নিয়মিত মদ্যপায়ী বা আগে থেকে লিভারের রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে এর লেবেল ও উপাদান ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত, কারণ বিভিন্ন সর্দি-কাশি বা জ্বরের ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকতে পারে। জ্বর বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে বারবার ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মত তাদের।
আমার বাঙলা/ তালহা
Leave a Comment