জলপাইগুড়ি: প্রবল বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীতে ভেসে যাচ্ছিল একটি হস্তীশাবক। সেই সময় নদীতে থাকা মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল শাবকটি। নৌকা নিয়ে দ্রুত ছুটে গিয়ে হস্তীশাবকটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পাড়ে তুলে আনেন তাঁরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গের মালবাজার ব্লকের ক্লান্তি এলাকার তিস্তা নদীতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীতে মাছ ধরার সময় মৎস্যজীবীদের নজরে আসে জলের স্রোতে ভেসে চলা হস্তীশাবকটি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কোনওরকম দেরি না করে নৌকা নিয়ে শাবকটির কাছে পৌঁছে যান তাঁরা।
এরপর শাবকটিকে নৌকায় তুলে নিরাপদে নদীর পাড়ে নিয়ে আসা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া হস্তীশাবকটিকে বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের কাঠামবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীদের হাতে তুলে দেন মৎস্যজীবীরা।
খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা হস্তীশাবকটির শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করেন।
ডুয়ার্সে বারবার লোকালয়ে হাতির আনাগোনা
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও আলিপুরদুয়ার সংলগ্ন এলাকায় হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। কখনও জনবসতিতে হাতির হানা, আবার কখনও রেললাইনে হাতির দল উঠে আসায় সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেলকর্মীদের।
এর আগেও ডুয়ার্সের চাপরামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় রাতের অন্ধকারে রেললাইনের উপর হাতির পাল উঠে আসার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই পালে ছিল একটি হস্তীশাবকও। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তৎপরতার সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন দুই লোকো পাইলট। ফলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় হাতির দলটি।
রেললাইনে হাতির পাল, সময়মতো ট্রেন থামিয়ে বাঁচানো হয় শাবক
আগের ঘটনায় রাত প্রায় ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ নাগরাকাটা ও চালসা স্টেশনের মধ্যবর্তী রেলপথে ছুটে চলছিল ৭৫৭৪২ নম্বর ডাউন ধুবড়ি-শিলিগুড়ি ডিইএমইউ। ট্রেনটি চাপরামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের নজরে আসে রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে থাকা একদল হাতি।
হাতির দলের মধ্যে ছিল একটি শাবকও। রাতের অন্ধকারে রেললাইনের উপর হাতির পাল দেখতে পেয়ে বিপদের আশঙ্কা করেন লোকো পাইলটরা। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন তাঁরা। ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় হাতির দল এবং শাবকটি।
তিস্তার জলে ভেসে যাওয়া হস্তীশাবককে মৎস্যজীবীদের দ্রুত উদ্ধার এবং রেললাইনে হাতির দলকে দেখে লোকো পাইলটদের সময়োচিত পদক্ষেপদুটি ঘটনাই উত্তরবঙ্গে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের পাশাপাশি বিপদের সময় দ্রুত তৎপরতার গুরুত্ব সামনে এনেছে।
Leave a Comment