রাজ্যকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে বড় এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার বেআইনি ও নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল প্রকাশ্যে নষ্ট করার মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগেই বালুরঘাটে নেশামুক্তি অভিযান করেছে রাজ্য সরকার। আর এবার কলকাতায় তা ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী। বালুরঘাটের পর খোদ কলকাতায় নেশামুক্তি অভিযানে নেমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার রোড রোলার চালিয়ে ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ ফেনসিডিল নষ্ট করলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৩১ কোটি টাকার কাশির সিরাপ নষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে এখন লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে নেশামুক্ত ভারত তথা নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। সেটার বাস্তবায়নে রাজপথে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দ্বিতীয় দফায় নিষিদ্ধ কাফসিরাপে চলল বুলডোজার। স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। ইকোপার্কে ৩ লক্ষ ১০ হাজার ফেনসিডিলের বোতল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ব্যবসা চলবে না। এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কারবারি কাউকে ছাড়া হবে না। রাজ্য থেকে মাদক এবং নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচার ঠেকাতে বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা-রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।’
অন্যদিকে আগে উত্তরবঙ্গে এই ছবি দেখা গিয়েছিল। এবার কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্কে ‘নেশামুক্তি’ কর্মসূচি’-তে গিয়ে কলকাতা পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাফসিরাপে রোড রোলার চালান মুখ্যমন্ত্রী। একদম নিজের হাতে রোড রোলার চালান তিনি। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হুঙ্কার দেন, ‘মাদক মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট পেশ ও সাজা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় তদন্তকারী আধিকারিকদের আইনি ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। তার ফলে এখন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স আরও হাতখুলে এবং স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ করতে পারবে।’
তাছাড়া মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মাদকের জেরেই সংসারে অশান্তি হয় এবং মহিলাদের উপর অত্যাচার বাড়ে বলে মনে করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে ‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যে সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে নেশায় আসক্ত লোকেরাই বর্বরোচিত কাণ্ডে যুক্ত। মহিলা সংক্রান্ত ঘটনাতেও যুক্ত তাঁরা। নেশায় আসক্তদের জন্য রাজ্যের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সরকার গড়ার প্রথম ৫ মাসে আমাদের লক্ষ্য ছিল নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যে নিষিদ্ধ কাফসিরাপ কোম্পানিগুলি আর চলবে না। এসটিএফের উদ্যোগে অসম থেকে কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া জাবেদ শামিম গ্রেপ্তার হয়েছে। এটি দ্বিতীয় বড় অভিযান। এটার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ গেল।’
Leave a Comment