জেরুজালেম, ১৬ অক্টোবর: ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সাহসিকতার পুরস্কারে সম্মানিত করতে ইজরায়েলে আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ৷ শনিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ (Presidential Award for Civilian Heroism) প্রদান করা হবে স্মিতকে ৷ সেই কারণেই আমন্ত্রণ ৷
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “ক্যাপ্টেন মচ্ছর সুস্থ হয়ে ওঠার পর ইজরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘অসামরিক ক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় হবে ।”
4 অক্টোবরের এক চিঠিতে ইজরায়েলি প্রেসিডেন্ট ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানটিকে নিরাপদে নিয়ে আসা এবং বড় বিপর্যয় এড়ানোর ক্ষেত্রে মচ্ছরের অসাধারণ সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।
হারজোগ লেখেন, “ঘটনাপ্রবাহ কোনও থ্রিলার গল্পের মতো মনে হলেও, আকাশে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের সময় ককপিটে যে চরম আতঙ্ক ও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কেবল কল্পনা করা যেতে পারে ।”
তবে, প্রেসিডেন্টের ওই চিঠিতে মচ্ছরকে পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না ।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ওই ফ্লাইটে থাকা ছয়জন ইজরায়েলি নাগরিককে অসামরিক ক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রদানের এক অনুষ্ঠানে হারজোগ এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন । মচ্ছরের জন্য এই সম্মাননা হবে একজন অ-ইজরায়েলি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিরল স্বীকৃতি । চিঠিতে মাচ্ছরের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে জেরুজালেম সফরে আমন্ত্রণ জানান হারজোগ ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মচ্ছর চিঠিটি হাতে পান । মারাত্মক বিপদের মুখেও মচ্ছরের স্থিরতার প্রশংসা করে হারজোগ লিখেছেন , “ব্যথাকে জয় করে উঠে দাঁড়ানো, জীবনে তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলা করার এবং সঠিক বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করার যে ক্ষমতা আপনি দেখিয়েছেন, তা চরিত্রের দৃঢ়তা ও অসামান্য সাহসিকতারই পরিচয় ।”
হারজোগ ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন । তিনি 1918 সালের 23 সেপ্টেম্বর অটোমান বাহিনীর হাত থেকে ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, “আপনার বীরত্ব আপনাকে সেই সব ভারতীয় সেনার মর্যাদাপূর্ণ সারিতে স্থান দিয়েছে, যারা 100 বছরেরও বেশি সময় আগে ‘পবিত্র ভূমি’র (হোলি ল্যান্ড) শহরগুলিকে মুক্ত করতে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন এবং চিরকালের জন্য ইজরায়েলের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন । ক্যাপ্টেন মচ্ছর, আপনিও এখন থেকে আমাদের জনগণের ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ হয়ে থাকবেন; এটি ভারত প্রজাতন্ত্র ও ইজরায়েলের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক ও বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে ৷”
তিনি আরও লেখেন, “সুস্থ হয়ে ওঠার পথে আপনার যাত্রা শুরু হচ্ছে; আমি জানি যে আপনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অত্যন্ত যত্নে রয়েছেন । আপনার পূর্ণ ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমরা সবাই আন্তরিক প্রার্থনা করছি । আপনি সুস্থ হয়ে ওঠার পর জেরুজালেমে স্বাগত জানাতে এবং আমাদের কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আপনার প্রতি ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ৷”
বিবৃতি অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রধান মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে মচ্ছরের ছবি-সহ পোস্টার দেখা গিয়েছে । প্রায় 180 জন ইজরায়েলি নাগরিকের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে তাঁর সাহসিকতার জন্য মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ।
এই ঘটনার পর ইজরায়েলে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরাও উষ্ণ সাড়া পেয়েছেন । বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরের দিন ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়াগুলিতে তাঁদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আপ্যায়ন করা হয়েছে ।
গত 30 সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমান হাইজ্যাক বা ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় সহ-পাইলটকে বাধা দিতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন মচ্ছর গুরুতর আহত হন ।
174 জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু-সহ বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় ওই ঘটনার পর সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় । গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, যার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা সহ-পাইলটকে কাবু করতে পারেন এবং সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় । ওই দিনই সব যাত্রী নিরাপদে ইজরায়েলে পৌঁছন ।
Leave a Comment