প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে জোর দেওয়ার ফলেই দেশে রেল দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করল রেলবোর্ড। কেন্দ্রের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জুন মাস পর্যন্ত দেশে মাত্র দু’টি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১৩৫, সেখানে গত অর্থবর্ষে তা নেমে এসেছিল ১৬-তে। রেলের দাবি, এক দশকে বড় রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৮৮ শতাংশ কমেছে।
রেলবোর্ডের মতে, নিরাপত্তা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৯,২০০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ১,২০,৩৮৯ কোটি টাকা।
রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’। বর্তমানে ‘কবচ ৪.০’ সফলভাবে ২,৫৬৯ রুট কিলোমিটারে চালু হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে দিল্লি–মুম্বই এবং দিল্লি–হাওড়ার মতো ব্যস্ত রেল করিডরও। পাশাপাশি ৭,৩২৭টি লোকোমোটিভ এবং ১,২০০টি ইএমইউ ও মেমু রেকে ‘কবচ’ বসানোর কাজ চলছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে বা লোকো পাইলট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করতে সক্ষম। ঘন কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নিরাপদ ট্রেন চলাচলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ৬,৬৭১টি স্টেশনে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ও সম্পূর্ণ ট্র্যাক সার্কিটিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এছাড়া ১০,৩৯৫টি লেভেল ক্রসিং গেটে ইন্টারলকিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। সমস্ত লোকোমোটিভে ভিজিল্যান্স কন্ট্রোল ডিভাইস বসানোর পাশাপাশি কুয়াশাপ্রবণ এলাকায় জিপিএস-ভিত্তিক ফগ সেফটি ডিভাইস এবং রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ সিগমা বোর্ডও বসানো হয়েছে।
রেলের দাবি, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে ‘কবচ’। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে ৯৪ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তিবিদ, লোকো পাইলট ও সহকারী লোকো পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ‘কবচ’ প্রকল্পে ৩,৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানিয়েছে রেলবোর্ড।
Leave a Comment