---Advertisement---

নাড্ডার সঙ্গে সিজেপির বৈঠকের পর গলল বরফ, ২৩ দিনের অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক

By Suman Debnath

July 21, 2026 9:30 AM

নাড্ডার সঙ্গে সিজেপির বৈঠকের পর গলল বরফ, ২৩ দিনের অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক

---Advertisement---


নিট-সহ বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ এবং সংস্কারের দাবিতে দিল্লির রাজপথে চলা আন্দোলনের আপাতত অবসান হল কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার বৈঠক হয়। কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস মেলার পরই ২৩ দিন ধরে চলা অনশন প্রত্যাহার করেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।

সোমবার সকালে সিজেপির ডাকা ‘চলো সংসদ’ অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। দিল্লি পুলিশের অনুমতি না থাকলেও পূর্ব ঘোষণা মতো যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। দিল্লির রাজপথে অন্তত ২০ হাজার মানুষ অভিযানে যোগ দেন। ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও মিছিল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

কারণ সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়। ফলে সংসদ ভবনে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অন্য সদস্যরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও আধা সেনা নামিয়ে কার্যত ঘিরে ফেলা হয় যন্তর মন্তর চত্ত্বর।

আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার করা হয়। তার পরেও বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। কিন্তু তাঁদের এগোতে না দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়।

এরপর আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রের তরফে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের ৩ দফা দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন।

আরও পড়ুন:  ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা না হলে আর বৈঠকের অর্থ নেই’! ‘হ্যাঁ না’য় জবাব চাই, কেন্দ্রকে কড়া বার্তা CJP-র

বৈঠকের পর নাড্ডা জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি। 

সিজেপির পক্ষ থেকে মূলত ৩টি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।দ্বিতীয়ত, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষার অনিয়ম ও মানসিক চাপে আত্মঘাতী হওয়া নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পর অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের প্রতিবাদে ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। কিন্তু হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। 

কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর পরিস্থিতির বদল ঘটে। সরকারের তরফে আলোচনার আশ্বাস পাওয়ার পর ২৩ দিনের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক। এর আগে সোনমের অনুরোধে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও অনশন প্রত্যাহার করেন।

অন্যদিকে সিজেপির সংসদ অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল যাদব। নিট কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করে তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা জানান।

সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন ডিম্পল যাদব-সহ দলের কয়েকজন কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যখন পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে, তখন সেই মিছিলে ছিলেন ডিম্পল। ঘটনার নিন্দা করে অখিলেশ যাদব বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করছে সরকার। যদিও পুলিশের তরফে এ বিষয়ে অন্যরকম বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ তুলে ৬ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। পরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। সোনম ওয়াংচুকের অনশন সেই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

এদিকে, আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরে জোর রাজনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, সোমবার যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় যখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে, সেই একই সময়ে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি নাড্ডার বৈঠক চলছে। আবার তখনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

সোমবারের সংসদ অভিযান ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খুলেছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দাবিগুলির বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সেদিকে এখন নজর থাকবে তাঁদের। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পরীক্ষার সংস্কার নিয়ে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ছাত্রসমাজ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment