---Advertisement---

মাওবাদী সংগঠনের শেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তার, দুই দশকের পলাতক জীবনের অবসান ঝাড়খণ্ডে

By Suman Debnath

July 29, 2026 10:30 AM

মাওবাদী সংগঠনের শেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তার, দুই দশকের পলাতক জীবনের অবসান ঝাড়খণ্ডে

---Advertisement---


দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ধরা পড়লেন মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা মিসির বেসরা। ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এর ধানবাদ (Dhanbad) জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। পুলিশের দাবি, এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত এই নেতা ছিলেন মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য এবং সংগঠনের অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিসির বেসরার সঙ্গে আরও দুই মাওবাদী নেতাকেও আটক করা হয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি সংগঠনের সামরিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, তাঁর গ্রেপ্তার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঝাড়খণ্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরার বাড়ি গিরিডি (Giridih) জেলার হারলাডিহি এলাকায়। সংগঠনের অভ্যন্তরে তিনি ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের দাবি, পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। সেই হিসেবে মিসিরই ছিলেন শীর্ষ নেতৃত্বের শেষ সক্রিয় সদস্য।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি একাধিক রাজ্যে ঘাঁটি বদল করে আত্মগোপন করেছিলেন। ২০০৭ সালে একবার ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ২০০৯ সালে বিহার (Bihar)-এর লখিসরাই (Lakhisarai) আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যান তিনি। অভিযোগ, সেই সময় আদালত চত্বরে মাওবাদীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:  দেশের প্রধানমন্ত্রী কতক্ষণ ঘুমান? রাজ্যসভার নয়া সাংসদদের পাঠ দিয়ে জানালেন অজানা তথ্য

এবার কীভাবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য মিলল, তা নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছে পুলিশ। ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর আসে যে মিসির বেসরা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পারশনাথ পাহাড় (Parasnath Hills)-সংলগ্ন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন। খবর পাওয়ার পরই সিআরপিএফ (CRPF), গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে।

রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডির সীমান্তবর্তী টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় মিসির বেসরা এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশা।

মিসির বেসরার গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বা সিআরপিএফের তরফে পরিবারের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। অন্য সূত্র থেকে তিনি বাবার গ্রেপ্তারের খবর জানতে পারেন।

আরও পড়ুন:  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মোদির, জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহে বিশেষ নজর কেন্দ্রের

সিদ্ধার্থ আরও দাবি করেছেন, প্রায় ১৫ দিন আগে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে বাবাকে আত্মসমর্পণের আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি লেখার অনুরোধ করেছিল। তিনি জানান, গত ২০ বছর ধরে বাবার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না। তবে বাবা জীবিত রয়েছেন, এই খবর পেয়ে তিনি স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত মিসির বেসরার গ্রেপ্তারকে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর কাছ থেকে সংগঠনের বর্তমান নেটওয়ার্ক, কৌশল এবং সক্রিয় সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যতের অভিযানে বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment