‘আমি তো দেখালাম, সম্রাট কি নিজের ডিগ্রি দেখাবেন?’, মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তুমুল আক্রমণে ‘আরশোলা’ অভিজিৎ

By Suman Debnath

August 3, 2026 3:41 PM

‘আমি তো দেখালাম, সম্রাট কি নিজের ডিগ্রি দেখাবেন?’, মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তুমুল আক্রমণে ‘আরশোলা’ অভিজিৎ


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিগ্রি নিয়ে বিতর্ক ফিরল নতুন করে। এ বার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (Cockroach Janta Party) প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজনৈতিক কৌশলী অভিজিৎ দীপকে। বিতর্ক মেটাতে নিজের শিক্ষাঋণ ও স্কলারশিপের নথি জনসমক্ষে আনতে চান তিনি। তবে তাঁর প্রাকশর্ত, বিজেপি নেতাদেরও তাঁদের ডিগ্রি প্রকাশ করতে হবে।ডিগ্রি দেখাতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও।

বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি এক বিজেপি কর্মী আরটিআইয়ের (RTI) মাধ্যমে অভিজিতের বিদেশে পড়াশোনার খরচ কোত্থেকে এল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। তার এক দিন পরেই পাল্টা জবাব দেন অভিজিৎ। সমাজমাধ্যম এক্সে (X) একটি ভিডিওবার্তায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ ঘরের ছেলে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে (Boston University) পড়লে সমস্যা কোথায়। শাসকদের শিক্ষার বিরুদ্ধে কেন এত আপত্তি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিজিৎ লেখেন, তিনি নিজের পাওয়া স্কলারশিপের চিঠি এবং শিক্ষাঋণের নথি প্রকাশ করতে রাজি। পাল্টা প্রশ্ন, দেশের সম্রাট কি দেখাবেন নিজের ডিগ্রি!

স্কলারশিপ ও ঋণের নথি প্রকাশ্যে

আরও পড়ুন:  বোমা আতঙ্কে চেন্নাই বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য: গোয়াগামী ইন্ডিগো বিমান ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে তল্লাশি, উদ্ধার হয়নি কিছুই

একটি ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ জানান, তাঁর পড়াশোনার খরচ পরিবারের কোনও সম্পদ থেকে আসেনি। আসেনি কোনও অনৈতিক উপায়ে। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এবং শিক্ষাঋণের মাধ্যমেই তাঁর পড়াশোনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। সেই ঋণ এখনও তাঁকে শোধ করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সুরাতের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি অভিজিতের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বাবার আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন ও আয়কর দপ্তরের কাছে। ককরোচ জনতা পার্টিকে দেওয়া রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বলের এক কোটি টাকার আইনি সহায়তা তহবিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মোদীর ডিগ্রি বিতর্ক

মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের সূচনা ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়। তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (Delhi University) থেকে স্নাতক এবং গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় (Gujarat University) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তরের উল্লেখ ছিল। বিরোধীরা বারবার আরটিআইয়ের মাধ্যমে সেই নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (Central Information Commission) দিল্লি ও গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়কে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেয়। তবে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে যায়। ২০২৩ সালে গুজরাত হাইকোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে জানায়, তথ্য প্রকাশের কোনও জনস্বার্থ-সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা নেই। সেই মামলায় আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ২৫০০০ টাকা জরিমানাও করেছিল আদালত।

আরও পড়ুন:  বেহাল শিক্ষা: দেশে প্রতিদিন ঝাঁপ পড়ছে ১৩টি স্কুলে, কেন্দ্রের রিপোর্টেই চোখ কপালে তুলে দেওয়া ছবি

বিজেপির অবস্থান

মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যাবতীয় বিতর্ক অমূলক বলেই বরাবর দাবি করে এসেছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি বহু বার প্রকাশ্যে দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংঘাতের মুহূর্তে বারবার এই প্রসঙ্গ ফিরে আসে বিরোধী শিবিরের হাতিয়ার হয়ে।

এখন পরিস্থিতি কী

সাম্প্রতিক নিট (NEET) আন্দোলনে বড় জয়ের পর ককরোচ জনতা পার্টির পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। আগামী ৫ আগস্ট দলের একটি বড় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment