দিল্লির সাকেত কোর্ট (Saket Court) শনিবার জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির (Dhruv Rathee) বিরুদ্ধে নতুন করে একটি জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা বেইলেবল ওয়ারেন্ট (Bailable Warrant) জারি করেছে। আট বছরের পুরনো একটি মানহানি মামলায় (Criminal Defamation Case) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক রাহুল জৈন নির্দেশ দিয়েছেন যে এবার এই পরোয়ানা গুরুগ্রামে (Gurugram) ধ্রুবর ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
কেন নতুন করে পরোয়ানা জারি
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। কিন্তু সেই পরোয়ানা অস্ট্রিয়ার (Austria) একটি ভুল ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল। ফলে সেটি তাঁর হাতে পৌঁছয়নি। যার জেরে ধ্রুব আদালতে হাজিরাও দেননি। শনিবার শুনানির সময় অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান যে ধ্রুব ইতিমধ্যেই ভারত ছেড়েছেন এবং বিদেশে বসবাস করছেন। এরপরই আদালত গুরুগ্রামের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নতুন করে সমন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ২০১৯ সালের জুলাই মাসেও তাকে এই মামলায় সমন পাঠানো হয়েছিল।
মামলার নেপথ্য কারণ
এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। ওই বছর বিকাশ সংস্কৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে নামের এক ব্যক্তি ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন। বিকাশ পাণ্ডে অভিযোগ করেন যে ধ্রুব নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বিজেপি আইটি সেল পার্ট টু (BJP IT Cell Part II) নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল যে বিজেপি আইটি সেলের সদস্যরা বিকাশ পাণ্ডেকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিকাশের দাবি এই ভিডিওর মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। যদিও পরে তিনি আদালতে স্বীকার করে নেন যে ভিডিওটি শেয়ার করা তার ভুল হয়েছিল। এর ফলে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আলাদা প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ভিডিওর মূল স্রষ্টা এবং প্রকাশক হিসেবে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে সাকেত আদালতে মূল মামলাটি চলতে থাকে। এবার সেই মামলাতেই ইউটিউবারের গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে পরোয়ানা পৌঁছতে চলেছে। ফলে নতুন করে সমস্যায় পড়তে চলেছেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব এই ইউটিউবার।
Leave a Comment