দিল্লি: যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ চলা আন্দোলন ঘিরে এবার সরাসরি দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)। আন্দোলনকারীদের কাছে খাবার পৌঁছানো এবং বিক্ষোভস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে CJP স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে CJP-র কর্মী অশুতোষ রাঙ্কা (Ashutosh Ranka) দাবি করেন, যন্তর মন্তরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আগে একাধিক পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনে যোগ দিতে আসা ছাত্রছাত্রীদের আটকে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের দাবির সমর্থনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন রাঙ্কা।
দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে রাঙ্কা লেখেন, “আপনারা যা খুশি করতে পারেন। কিন্তু যন্তর মন্তরে মানুষের আসা আটকাতে পারবেন না। খাবার পৌঁছানো বন্ধ করতে পারবেন না। আমাদের সাহায্য করা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে পারবেন না। সবচেয়ে বড় কথা, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও আটকাতে পারবেন না।”
এদিকে শুক্রবার, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করার পর CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) জানিয়ে দেন, আন্দোলনের মূল দাবি এখনও অপরিবর্তিত। তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
দীপকে বলেন, সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেলেও আন্দোলনের লক্ষ্য বদলায়নি। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে যে কোনও বৈঠক নিরপেক্ষ স্থানে হওয়া উচিত এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও সমাধান তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে তিনি রাজি হননি বলেও স্পষ্ট করেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)-এর সঙ্গে CJP প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে CJP-র দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। এখন সেই বৈঠকের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক মহল।
Leave a Comment