‘আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, তারপর আলোচনা’—কেন্দ্রকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককোরোচ জনতা পার্টির, পেলেট গানের অভিযোগে তদন্ত শুরু।
দিল্লি: ‘আগে ইস্তফা, তারপর আলোচনা’—কেন্দ্রীয় সরকারকে এই কঠিন বার্তা দিয়ে বৈঠক থেকে উঠে এল ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে (Constitution Club of India) কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) ইস্তফার দাবি অপরিবর্তনীয় রাখে সংগঠনটি। সরকারকে এই দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের ঘোষণায় তাদের মন ভরেনি।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁসের দায়ীদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথা বলেন। কিন্তু ককোরোচ জনতা পার্টি তা মানতে নারাজ। শুক্রবার সকালে কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে তারা জানিয়ে দেয়, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকার সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে। ‘আমরা আলোচনার জন্য বসেছি, কিন্তু ইস্তফা বাদে কোনো সমাধান হবে না’—বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই জানান সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের আগেই বড় সাফল্য পেয়েছে ককোরোচ জনতা পার্টি। সক্রিয়কর্মী সোনাম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে (Medanta Hospital, Gurugram) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) ও জিতেন্দ্র সিংহের (Jitendra Singh) সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর আমরণ অনশন স্থগিত করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাঁকে সরকারের আশ্বাস জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই আশ্বাসে আন্দোলন থামছে না। সিজেপি সাফ জানিয়েছে, পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা বাদে তারা কিছু মানবে না।
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর (Jantar Mantar, Delhi) থেকে সংসদ ভবনের দিকে মিছিলে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটে সেদিন। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) জানিয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) দ্বারা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পেলেট গান ব্যবহারের খবর তারা যাচাই করছে। ইরশাদ শেখ নামে এক বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানিয়েছেন, আরএএফ-এর গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে।
গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের পর আবিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) ককোরোচ জনতা পার্টি তৈরি করেন। ইনস্টাগ্রামে কয়েক দিনেই দুই কোটির বেশি ফলোয়ার পেয়েছে এই সংগঠন। ৩০ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, তাঁরা আইন মেনেই আন্দোলন করবেন। আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন লক্ষাধিক পড়ুয়া। প্রায় ২০ জন পড়ুয়ার আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
কেন্দ্রীয় সরকার এখন চাপে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এখনই যদি প্রধানমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেন, তাহলে জনচাপের কাছে সরকার হার মানল—এই বার্তা যায়। সেটা মোদী সরকারের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। অন্যদিকে, ককোরোচ জনতা পার্টি সাফ জানিয়েছে, তাদের দাবি অপরিবর্তনীয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা না এলে কী হবে—তা জানায়নি সংগঠনটি। তবে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে।
Leave a Comment