প্রবল বৃষ্টির জেরে সিকিমে একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ভূমিধস। দুর্ঘটনার সময় টানেলে ভিতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কমপক্ষে ১৮ জন বা তার বেশি শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিকিমের পাকইয়ং জেলার সামারদুং (ঝোলুঙ্গে) এলাকায়।
প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই টানেলটি সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন টানেল ছিল। পূর্ব সিকিমের পাকইয়ং জেলার নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং এলাকায় কাজ চলছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তা স্টেজ-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই টানেলটি সিকিমের সঙ্গে নাথু-লা পাসের সংযোগকারী কৌশলগত পথ। টানেলটি চালু হলে গ্যাংটকমুখী পর্যটক এবং নাথু-লা পাসগামী সেনাবাহিনীর যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে।
টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই টানেলের ভিতরে ভূমিধসে আটকে পড়েন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিথেন গ্যাসের লিখ। জানা গিয়েছে, যে অংশে শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন, সেখানে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
টানেল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে তাঁরা হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত বেরিয়ে আসেন। ঠিক কী কারণে ওই শব্দ হয়েছিল এবং তার জেরেই ধস নেমেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Leave a Comment