জ্ঞানেশের পর এবার সীমা খন্না, দিল্লির থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর মহুয়ার

By Suman Debnath

October 1, 2026 3:25 PM

জ্ঞানেশের পর এবার সীমা খন্না, দিল্লির থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর মহুয়ার


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেই দায়ের করা হয়েছিল। এবার নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক সীমা খন্নার বিরুদ্ধেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বুধবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সীমার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন কৃষ্ণনগরের এই সাংসদ।

সমাজমাধ্যমে মহুয়া (Mahua Moitra) লেখেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সময় চেয়েছেন। ৫ অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মহুয়ার দাবি, ৬ অক্টোবর তিনি ফের থানায় যাবেন।

মহুয়ার (Mahua Moitra) অভিযোগ মূলত ভোটার তালিকা পরিচালনার সফটওয়্যার এবং তার ‘ব্যাক এন্ড’ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি সীমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয়করণ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর আপত্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছিল।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে হামলার পর সাহসিকতারর জন্য প্রশংসিত ভারতীয় পাইলট, কে এই স্মিত মচ্ছর?

ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত ERO-দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ‘ইআরওনেট’ থেকে ‘ইসিআইনেট’-এ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে স্থানীয় আধিকারিকদের ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের ক্ষমতা কতটা কার্যকর রয়েছে।

আরও পড়ুন:  মারাত্মক রহস্য: MLA হস্টেলের সাত তলা থেকে সোজা নীচে পড়ে শেষ নামী বিজেপি নেতা, মৃত্যু না হত্যা?

আগস্টে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এই বিষয়েই আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ERO-দের ‘ইআরওনেট’-এ সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এই বিতর্কে গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয়  ERO-রা শুনানির পরে ওই ৯৭ জনকে ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরানো যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। মহুয়ার অভিযোগে এই ঘটনাকেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমা খন্নার বিরুদ্ধে অতীতে তৃণমূল নানা অভিযোগ তুলেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ডিসেম্বরে ভোটার তালিকায় তথ্য বিশ্লেষণ এবং সেই কাজে ব্যবহৃত সফওয়্যার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আধিকারিকদের দীর্ঘ সময় ধরে যাচাইয়ের কাজ করতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল তথ্য কীভাবে বিশ্লেষণ করা হল, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:  বেসরকারিকরণের পথে মহাকাশ গবেষণা, ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কর্মীদের

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা মোদী, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়েও লেখা হয়। তা নিয়ে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন। মহুয়ার (Mahua Moitra) অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সীমাও ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার কেন্দ্রীয়করণে ভূমিকা নিয়েছেন। এই অভিযোগ অবশ্য তদন্তের বিষয় এবং সীমা খন্নার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনও তদন্তকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেনি।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর এই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহুয়া (Mahua Moitra)। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এফআইআর করার আবেদন করেছিলেন তিনি।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগে মহুয়া কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার ফলে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra)। এবার সীমা খন্নার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ আদৌ এফআইআর করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

দেখুন: সামনেই ভারত-ব্রাজিল মহারণের জন্য নতুন রূপে সেজে উঠেছে যুবভারতী, কোথায় কী বদল?

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment