পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আর আধার কার্ডের প্রয়োজন হবে না। তার বদলে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রাহ্য করা হবে ভোটার কার্ড। পাশাপাশি যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে বায়োমেট্রিক তথ্যও। মঙ্গলবার এমনই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংহ ওরফে লল্লন সিংহ। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত শুক্রবারও একই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। খুব শীঘ্রই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
মন্ত্রীর কথায়, আধার কার্ডের ভিত্তিতে এত দিন যাঁরা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে এসেছেন, আগামী দিনে সেই ব্যবস্থা আর চালু থাকবে না। তিনি বলেন, “একটা কথা স্পষ্ট করে দিতে চাই, আধারের ভিত্তিতে এত দিন যাঁরা পঞ্চায়েতের প্রকল্পগুলির সুবিধা ভোগ করছিলেন, তা আর হবে না।” তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় প্রতিটি এলাকায় আধার তৈরির কেন্দ্র রয়েছে এবং মাত্র পাঁচ মিনিটেই আধার কার্ড তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু পঞ্চায়েতের প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধারকে আর পরিচয়পত্র হিসাবে মান্যতা দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ভোটার কার্ডের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্যের ভিত্তিতে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাই করা হবে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
লল্লন সিংহের দাবি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার নথিভুক্ত হওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। আবার কেউ কেউ ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি আটকানো সম্ভব হবে বলে তাঁর মত।
উল্লেখ্য, গত অগস্টে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারও নাম বাদ পড়ার অর্থ তিনি নাগরিকত্ব হারিয়েছেন, এমন নয়। একইভাবে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমানে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরব বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েতের প্রকল্পে আধারের বদলে ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Comment