পুতিনের ‘উড়ন্ত দুর্গ’ দিল্লির রাস্তায়, চড়েছেন মোদীও:  আওরাস সেনাটের আসল রহস্য কী?

By kolamkotha.com

September 11, 2026 8:50 PM

পুতিনের ‘উড়ন্ত দুর্গ’ দিল্লির রাস্তায়, চড়েছেন মোদীও:  আওরাস সেনাটের আসল রহস্য কী?


ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন দিল্লিতে। আর তাঁর সঙ্গেই মস্কো থেকে উড়ে এসেছে সেই বিখ্যাত গাড়ি, যাকে বলা হয় চাকার উপর উড়ন্ত দুর্গ। সেই গাড়িতে পুতিনের সঙ্গে সফর করে ফের খবরের চুম্বক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও মানুষের প্রবল কৌতূহল ওই গাড়িটেকে ঘিরে। পুতিনের এই রহস্যময় গাড়ির নাম আওরাস সেনাট (Aurus Senat)। রাজধানীর রাস্তায় এই লিমুজিন দেখা মাত্রই কৌতূহল বেড়ে গিয়েছে আমজনতার। আর এটাও সত্যি যে, এই গাড়ির ভিতরে ঠিক কী কী লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে রহস্যের শেষ নেই।

কেন বলে উড়ন্ত দুর্গ

আওরাস সেনাটকে নিছক বিলাসবহুল গাড়ি ভাবলে ভুল হবে। এটি সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ (bulletproof) এবং বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী (blast-resistant)। গাড়ির বডি ও কাচ যেমন যেকোনও ধরনের গুলি সহ্য করতে পারে। তেমনই গাড়িটের তলদেশ এমনভাবে তৈরি, যাতে বিস্ফোরণেও কোনও ক্ষতি না হয়। টায়ার ফুটো হয়ে গেলেও গাড়ি ছুটতে পারে অনেকক্ষণ। জ্বালানি ট্যাঙ্কও বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী। রাসায়নিক হামলা হলে ভিতরে বাতাস বিশুদ্ধ রাখার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ইঞ্জিনে রয়েছে ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বো ভি৮ (V8) হাইব্রিড, যার শক্তি ৫৯৮ হর্সপাওয়ার। প্রয়োজনে ব্যবহার হয় ভি ১২ (V12) সংস্করণও, যার শক্তি ৮৫০ হর্সপাওয়ার। এমন ভারী বর্মে মোড়া গাড়ি হয়েও শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সময় এই আওরাস সেনাট সময় নেয় মাত্র ৬ থেকে ৯ সেকেন্ড।

আরও পড়ুন:  টাইগার শ্রফের নিরাপত্তায় পুলিশি প্রহরা, তিন অভিযুক্তকে নিয়ে মুম্বাই ফিরল পুলিশ

গাড়ির ইতিহাস

আওরাস সেনাটের জন্ম রাশিয়ার কর্তেঝ প্রকল্প (Kortezh programme) থেকে। যার উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় প্রযুক্তিতে শীর্ষ নেতাদের জন্য বিলাসবহুল ও সুরক্ষিত গাড়ি তৈরি করা। ২০১৮ সালে এই গাড়ির আত্মপ্রকাশ ঘটে মস্কোর এক প্রদর্শনীতে। নকশায় স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে সোভিয়েত জমানার বিখ্যাত জিস-১১০ (ZIS-110) গাড়ির। অসামরিক সংস্করণও তৈরি হয়, তবে সংখ্যায় খুব সীমিত। দাম প্রায় ১৮ থেকে ৩৬ মিলিয়ন রুবল, ভারতীয় মুদ্রায় যা আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি।

চড়লেন মোদী

এই গাড়ি নতুন করে আলোচনায় এসেছিল শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে (SCO Summit), যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পুতিন একসঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছিলেন এই সেনাটের ভিতরে। দুই নেতার সেই সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা কম হয়নি। এবারও ব্রিকস সম্মলনের প্রথম দিনই ফের একযোগে এই আওরাস সেনাট চড়ে গাড়ি-কূটনীতি সেরে ফেলেছেন পুনি ও মোদী। তাঁদের এই ছকভাঙা সাক্ষাৎকে কারপ্লোম্যাসি বলা হচ্ছে।

কিম জং উনকেও উপহার

আরও পড়ুন:  আজ সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির মামলার শুনানি

আওরাস সেনাট শুধু পুতিনের নিজের গাড়ি নয়, কূটনৈতিক উপহারও বটে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে এই লিমুজিন উপহার দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা (UN sanctions) থাকা সত্ত্বেও কেন এই উপহার, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে।

মস্কোয় বিস্ফোরণের স্মৃতি

গত বছর মস্কোয় এফএসবি (FSB) সদর দপ্তরের কাছেই একটি আওরাস সেনাটে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে যায়। জল্পনা তৈরি হয়েছিল, এটা আসলে পুতিনকে হত্যারই চেষ্টা ছিল। এই ঘটনার পর থেকে রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা আরও বেড়েছে।

দিল্লিতে নিরাপত্তা

পুতিনের এই দিল্লি সফরে গোটা রাজধানীই বস্তুত দুর্গে পরিণত হয়েছে। এনএসজি (NSG), দিল্লি পুলিশ ও রুশ নিরাপত্তা বাহিনী মিলিয়ে পাঁচ স্তরের সুরক্ষাবলয় তৈরি হয়েছে। মোতায়েন হয়েছে স্নাইপার, ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। আর এই গোটা সুরক্ষাবলয়ের কেন্দ্রেই রয়েছে সেই আওরাস সেনাট, যাকে পুতিন নিজেই সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন বলে জানা যায়।



No comments to show.

Leave a Comment