প্রায় দুই দশক জেলবন্দি থাকার পর নিঠারি হত্যাকাণ্ডের সব মামলা থেকে গত বছর বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন সুরেন্দ্র কোলি। জেল থেকে বেরিয়ে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে শুরু করেছিলেন নতুন জীবন। খুলেছিলেন ছোট একটি চায়ের দোকান। সেই দোকানের ভিতরেই শুক্রবার সকালে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করছে পুলিশ। তবে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর হরিদ্বারের ভূপতওয়ালা এলাকায় সপ্ত সরোবর রোডে লালমাতা মন্দিরের সামনে ওই চায়ের দোকানটি ছিল। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা দোকানের ভিতরে সুরেন্দ্রকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষার পর মৃত্যুর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২০০৫-০৬ সালে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার নিঠারি এলাকায় একের পর এক শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী মণীন্দ্র সিংহ পান্ধেরের বাড়ির পিছনের নালা ও আশপাশ থেকে ১৯টি কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তদন্তে সুরেন্দ্র কোলির নাম সামনে আসে। তিনি পান্ধেরের বাড়িতে পরিচারকের কাজ করতেন। পরে সিবিআই তদন্তভার নেয়। কোলির বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা হয়। বিভিন্ন মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্ত ও প্রমাণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। ২০২৩ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট নিঠারি-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় কোলি ও পান্ধেরকে খালাস দেয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টও কোলিকে শেষ মামলাটিতে বেকসুর খালাস করে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে নিঠারি-কাণ্ডে আর কোনও সাজা বহাল থাকেনি।
গত বছরের নভেম্বরে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হরিদ্বারে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকানটি চালু করেছিলেন। জেল থেকে মুক্তির পর নিঠারির নিহতদের পরিবারের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, এত বছর ধরে যে মামলায় দু’জনকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁরা কীভাবে খালাস পেলেন। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার হরিদ্বারে সুরেন্দ্রের রহস্যজনক মৃত্যু।
এদিকে, নিঠারি মামলার এক ভুক্তভোগীর বাবা সুরেন্দ্রের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। ৬৪ বছরের ঝাব্বু লালের ১৫ বছরের মেয়ে নিঠারি-কাণ্ডের নিহতদের মধ্যে ছিল। শুক্রবার তিনি দাবি করেন, ‘সুরেন্দ্র কোলিকে খুন করা হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেননি।’ তাঁর প্রশ্ন, জেলে থাকার সময় আত্মহত্যা করলে হতাশার কারণ বোঝা যেত। কিন্তু মুক্তির পর কয়েক মাস বাইরে থাকার পরে কেন তিনি আত্মহত্যা করবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুন: কোলাবার ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেতে স্বাস্থ্যবিধির বেহাল দশা, লাইসেন্স সাসপেন্ড
কোলি মামলা সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করতে পারেন, সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন ঝাব্বু লাল। তাঁর এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। আত্মহত্যা, না কি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Leave a Comment