‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের মত পাথর্ক্য হয়েছিল। এবার ফের তাদের মধ্যেকার মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এল। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক কংগ্রেস ইউপিআই (UPI) নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও জম্মু ও কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেন মাশুল বসানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ওমরের (Omar Abdullah) বক্তব্য, প্রস্তাবিত মাশুল সব ধরনের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সাধারণ মানুষ একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালে কোনও চার্জ দিতে হবে না বলে জানান তিনি। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা লেনদেনেও মাশুল প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী (Omar Abdullah)।
ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট খরচ হয় বলেও মন্তব্য করেন ওমর(Omar Abdullah)। তবে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে যাতে কোনও মাশুল যাতে নেওয়া না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া গেলে অনেক সময় তার মূল্য আমরা বুঝতে পারি না। কোম্পানিগুলির উপর মাশুল বসানোয় তাঁর আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, ইউপিআই (UPI) ব্যবহারের মাধ্যমে সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সরকারি প্রকল্পের বাইরে মহারাষ্ট্রের বিস্মৃত মায়েদের বাস্তব ছবি
১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মাশুল
কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালু হবে। ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে এই মাশুল বসানোর কথা।
এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের এই মাশুলের আওতায় আনা হবে না। ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনও মাশুল নেওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা কংগ্রেসের
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, ইউপিআইয়ে (UPI) মাশুল বসানোর সিদ্ধান্তের পিছনে আমেরিকার চাপ কাজ করছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে পরোক্ষভাবে আমেরিকার হাতে বিপুল অর্থ চলে যাবে।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে রাহুল বলেন, ইউপিআইয়ের উপর মাশুল বসিয়ে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইউপিআই মাশুল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। যদিও কেন্দ্র বিদেশি চাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: ডুবে যাওয়ার আগে ভারতের দ্বীপগুলির কথা তুলে ধরছেন সাংবাদিক
বন্দে মাতরমের পর ইউপিআই নিয়েও মতপার্থক্য
ইউপিআই নিয়ে কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের ভিন্ন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর আগে জাতীয় গান বন্দে মাতরম নিয়েও দুই শরিকের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের একটি জাতীয় চলচ্চিত্র অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওমর আবদুল্লাও। অন্যদিকে, কংগ্রেস তাদের দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় গানের প্রথম দু’টি স্তবক পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই অবস্থান নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। ন্যাশনাল কনফারেন্সের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তারা কোন গান কতটা পরিবেশন, তা কোনও জোটসঙ্গী ঠিক করে দিতে পারে না। এবার ইউপিআই মাশুল নিয়েও দুই দলের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এল।
দেখুন: ৭৬তম জন্মদিনে মোদির জন্য ভাদনগরে আরতি, হাজির অমিত শাহ
Leave a Comment